টাকা ফেরত চেয়ে কোচবিহারে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র।
কিছু দাও, তবেই কিছু পাবে— সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাওয়ার জন্য স্থানীয় নেতাদের কাছে এই কথাই শুনতে হয়েছে গরিব গ্রামবাসীদের। অভিযোগ, আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়ার জন্য উপভোক্তা প্রতি যেমন খুশি টাকা তুলেছেন কোচবিহার-১ ব্লকের তৃণমূল বুথ সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সদস্যা। সোমবার ওই দু’জনকেই আটক করল পুলিশ। যদিও তাতে ক্ষোভ প্রশমন হয়নি। টাকা ফেরত চেয়ে পোস্টার হাতে বার হয়েছেন গ্রামবাসীরা।
কোচবিহার-১ ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংলালের কুঠি এলাকায় আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে হাজার, ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুথ সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সদস্যা সম্মেলন করার নামে আবাস যোজনায় ঘর পেয়েছে এমন উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। ‘কাটমানি ফেরত চাই’ লেখা পোস্টার নিয়ে সোমবার বেরিয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশবাহিনী। তার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও যেতে হয়। শেষমেশ বুথ সভাপতি প্রতাপচন্দ্র চন্দ এবং পঞ্চায়েত সদস্যা সেলিনা খাতুনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাড়ি দেওয়ার জন্য যে কাটমানি তোলা হয়েছে, সে কথা স্বীকারই করে নিয়েছেন বুথ সভাপতি প্রতাপচন্দ্র। তবে তিনি দায় চাপান নেতৃত্বের ঘাড়ে। ওই তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘নির্বাচনের তিন মাস আগেই আমাকে বুথ সভাপতি করা হয়েছে। দলের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এলাকায় পঞ্চায়েত সম্মেলন করতে হবে। তার খরচ যোগাড় করতে যাঁরা আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে টাকা তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক কারও কাছ থেকে এক হাজার, কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা তোলা হয়েছে।’’ যদিও কাটমানি-অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত সদস্যা সেলিনা। তিনি বলেন, ‘‘আমার হাতে কেউ কোনও টাকা দেননি। গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ দেখাতেই পারেন। কিন্তু আমরা বা আমি কারও কাছ থেকে একটাকা চাইনি। টাকা তোলাও হয়নি।’’
পাল্টা গ্রামবাসীদের তরফে বিষ্ণুপদ ভৌমিকের অভিযোগ, ১৫৮ নম্বর বুথের সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সদস্যা আবাসের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর থেকেই কারও কাছ থেকে ২ হাজার, কারও কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জবরদস্তি করে আদায় করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই সেই টাকা ফেরত দেওয়া হোক। সেই দাবিতে আমরা আজ ওঁদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি।’’