রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে খুনের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ। —ফাইল চিত্র।
সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের মামলায় বিধাননগর আদালতে চার্জশিট জমা দিল বিধাননগর পুলিশ। বুধবার আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তাতে পাঁচ জনকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। তবে ‘মূল অভিযুক্ত’ তথা রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। এখনও তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনের দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই খুনের মামলায় নাম জড়ায় প্রশান্তের। বারাসত আদালতে তিনি আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। তা মঞ্জুরও হয়েছিল। পরে বিধাননগর পুলিশ এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাই কোর্ট বারাসত আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। কেন প্রশান্তকে আগাম জামিন দেওয়া হল, প্রশ্ন তোলে উচ্চ আদালত। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত। তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ১৯ জানুয়ারি শীর্ষ আদালতও প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। বলা হয়, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে ধরা দিতে হবে। আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিনের আবেদন করতে পারবেন। তদন্তের প্রয়োজনে নিম্ন আদালতে সেই জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ প্রশান্তকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও করতে পারবে বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশান্ত আত্মসমর্পণ করেননি। সুপ্রিম কোর্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পরের দিনই রাজগঞ্জের বিডিও পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বদলে দায়িত্ব পান যুগ্ম বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল। এ বার দত্তাবাদকাণ্ডে আদালতে চার্জশিট জমা দিল বিধাননগর পুলিশ। তবে প্রশান্ত এখনও অধরা।