ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে জনতাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সামনে মাথা নত করে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ উপলক্ষে ব্রিগেডে উপস্থিত ছিলেন তিনি। আলাদা করে মোদী কোনও ভাষণ দেননি। নতজানু হয়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণামের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেই প্রণামের ভিডিয়ো তাঁর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও পোস্ট করা হয়েছে।
ব্রিগেডের মঞ্চে উঠে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মোদী। হাতজোড় করে বিশ্বকবিকে প্রণামও করেন। শনিবার ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তী। সে কথা মাথায় রেখেই এই দিনটিকে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মত একাংশের। মঞ্চে মোদীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আলাদা করে তার প্রতিফলন ঘটেছে। এর পরেই মঞ্চের মাঝে গিয়ে ভিড়ের দিকে মুখ করে প্রণাম করেন মোদী। প্রথমে হাঁটু মুড়ে বসে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর মাথা নিচু করে শুয়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম সারেন। ফেসবুকে এই ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি পশ্চিমবঙ্গের জনশক্তির কাছে মাথা নত করছি।’’
২৯৪ (ভোট হয়েছে ২৯৩ আসনে) আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এ রাজ্যে এর আগে কখনও বিজেপি সরকার গঠন করতে পারেনি। মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে সর্বভারতীয় স্তরেই বিজেপি আলাদা উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের তাৎপর্য ভিন্ন। বিজেপির পূর্বসূরি সংগঠন জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘরের মাটিতে প্রথম বিজেপি সরকার স্থাপিত হল মোদীর আমলেই। পশ্চিমবঙ্গের জয়ে আলাদা করে আলোকপাত করতে ভোটের ফলঘোষণার দিন বাঙালি পোশাকে সেজেছিলেন মোদী। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন। এ বার কলকাতায় এসে জনগণকে প্রণামও করলেন।
শনিবার সকাল ১০টার কিছু পরে মোদীর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে রেসকোর্সে পৌঁছোন তিনি। গাড়ি করে রেসকোর্স থেকে ব্রিগেড পর্যন্ত যান। এর পর হুডখোলা গাড়িতে ব্রিগেডের মঞ্চে আসেন। এই সময় মোদীর পাশে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্রিগেডে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে নাড়তে মোদী মঞ্চে ওঠেন।
মোদীর সাষ্টাঙ্গ প্রণামের সময় ব্রিগেডের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ ছাড়া, বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই ছিলেন। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন কলকাতায়। তাঁদের মধ্যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, চিরাগ পাসোয়ান, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীরা অন্যতম।