Aadhar Card

মৃতদের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু

ইউআইডিএআই সূত্রের খবর, ২০১১ সাল থেকে সরকারি ব্যবস্থায় যত মৃত্যুর শংসাপত্র নথিবদ্ধ হয়েছে, তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ রাজ্যের প্রায় ৩৩ লক্ষ এমন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাঁদের কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৫

—প্রতীকী চিত্র।

এসআইআরের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদের কার্ড নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করল আধার কর্তৃপক্ষ ইউআইডিএআই-ও। এ রাজ্যে আধার চালু হয়েছিল ২০১১ সাল থেকে। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত ইউআইডিএআই-এর তথ্যভান্ডারে যত ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মৃতদের নাম বাছাই করে কার্ড নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে। এসআইআরে আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টও। ফলে মনে করা হচ্ছে, ভোটার তালিকাতেও আগামী দিনে যত মৃত ব্যক্তি থাকবেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করা সহজ হবে।

ইউআইডিএআই সূত্রের খবর, ২০১১ সাল থেকে সরকারি ব্যবস্থায় যত মৃত্যুর শংসাপত্র নথিবদ্ধ হয়েছে, তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ রাজ্যের প্রায় ৩৩ লক্ষ এমন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাঁদের কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। গোটা দেশে এই সংখ্যাটা কমবেশি আড়াই কোটি। এতদিন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তিদের নাম নিষ্ক্রিয় করার কোনও পদ্ধতি আধার কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না। চলতি ব্যবস্থায় ইউআইডিএআই-এর তথ্যভান্ডারে মৃত ব্যক্তি-সহ নথিবদ্ধ হওয়া সকলের আধার নম্বর থেকে যাবে। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তিদের আধার কার্ডটি আর কার্যকর থাকবে না। এক কর্তার কথায়, ‘‘আধারের নম্বরটি ইউনিক নম্বর হিসাবেই ধরা হয়। ফলে নম্বরটি তথ্যভান্ডারে রেখে দেওয়ার কারণ, যাতে ওই নম্বরটি অন্য কাউকে আর দেওয়া না যায়। নিষ্ক্রিয় হওয়ার পরে এমন মৃত ব্যক্তিদের কার্ড অসাধু পথে ব্যবহারের চেষ্টা হলেও, স্বংয়ক্রিয় ব্যবস্থায় তা আটকে যাবে।’’

চলতি এসআইআরের এনুমারেশন পর্বে ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে আধার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাদের সেই তথ্যের ভিত্তিতে বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই যে প্রায় ৫৮.২০ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিল কমিশন, তার মধ্যে প্রায় ২৪.১৬ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম ছিল। যে ভোটার তালিকার উপর এসআইআর শুরু হয়েছিল, সেখানে মোট প্রায় ৭.৬৬ কোটি ভোটার ছিলেন। সেই সংখ্যার নিরিখে বাদ যাওয়া মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রায় ৩.১৫%। ঘটনাচক্রে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিহার এসআইআরের সময় থেকেই সে কাজে পরিচয়পত্র হিসাবে আধারকে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। এ রাজ্যের এসআইআরেও তাই প্রত্যেক এনুমারেশন ফর্মের সঙ্গে আধার নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, ভোটার-আবেদনের সঙ্গে আধার সংযুক্ত হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। ফলে কোনও মৃত ব্যক্তির আধার নিষ্ক্রিয় হলে ভোটার তালিকাতেও তেমন নাম খুঁজে বের করা কঠিন হবে না।

আধার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত ব্যক্তির নাম-তথ্য কাজে লাগিয়ে অবৈধ নানা ধরনের কাজ হয়ে থাকে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা ছাড়াও, সরকারি নানা ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধাও পাওয়া যায় আধার থাকলেই। এ রাজ্যেও যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ একাধিক অনুদান প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক। ফলে মৃত ব্যক্তিদের আধার নম্বরগুলি নিষ্ক্রিয় হলে সেই প্রবণতা ঠেকানো সম্ভব। তবে বিভিন্ন মহলের বক্তব্য, প্যান-কার্ড, ব্যাঙ্ক-সহ সব ক্ষেত্রে আধার সংযুক্ত থাকায় তথ্যের গোপনীয়তা কতটা রক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকে যায়। তাই মৃতদের আধার নিষ্ক্রিয় হলেও, তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে চর্চা রয়েছে।

তবে আধার কর্তৃপক্ষের দাবি, তথ্যের সুরক্ষায় বায়োমেট্রিক-আধার লক করা, মুখের ছবির মাধ্যমে যাচাই (ফেস রেকগনিশন)- সহ একাধিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তথ্য সুরক্ষিত রাখতে তথ্যভান্ডারে আধার নম্বর ‘এনক্রিপটেড ফরম্যাটে’ রাখার পদ্ধতিও চালু হয়েছে এখন। অর্থাৎ, এতে আধার নম্বর ‘হ্যাক’ করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন