West Bengal Elections 2026

ভোটের দায়িত্বে অব্যাহতি নয়, নির্দেশ কমিশনের

কমিশনের এই নির্দেশের কারণেই সমস্যা বেড়েছে। বিশেষত, পুরুষ ভোটকর্মীদের প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দয়াল সেনগুপ্ত 
শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০০:২১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোট কর্মীর সঙ্কট। সে কারণে ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে কোনও অজুহাতই ঢাল করে রেহাই পাবেন না কোনও সরকারি কর্মী— স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন।

প্রাশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবারই ভোটকর্মীদের সঙ্কট সামলাতে একটি চিঠি জেলাশাসকদের পাঠিয়েছেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সেখানে একগুচ্ছ নির্দেশের পাশাপাশি বলা হয়েছে, ভোটকর্মীদের অব্যাহতি এবং ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিচারবুদ্ধি সহকারে করতে হবে ও তা শুধুমাত্র অনির্বায কারণ, বিরলতম ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না।

কমিশনের এই নির্দেশের কারণেই সমস্যা বেড়েছে। বিশেষত, পুরুষ ভোটকর্মীদের প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটকর্মী কম থাকায় চাইলেও কোনও অজুহাতে রেহাই দেওয়ার অবস্থায় নেই প্রশাসনের।

জানা গিয়েছে, সমস্যার কথা মাথায় রেখে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের চিঠি পাওয়ার আগে ও পরে বারবার জেলাশাসক প্রতিটি দফতরের (রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর, এমনকী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-সহ) বিভাগীয় প্রাধানদের চিঠি করে কমিশনের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন নির্বাচনের জন্য চিহ্নিত ভোটকর্মী এবং আধিকারিকেরা যেন ভোট প্রাক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট বীরভূমে। জেলার স্থায়ী বুথ ৩০৭৬টি। তার সঙ্গে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন এমন ১৮০টি অতিরিক্ত বুথ মিলিয়ে মোট ৩২৫৬টি। প্রতি বুথে চারজন (প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট পোলিং অফিসার, সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসার) ভোটকর্মী ধরলে ১৩ হাজারের বেশি ভোটকর্মী প্রয়োজন। রিজ়ার্ভে আরও ২০ শতাংশ ধরলে সংখ্যাটি সাড়ে পনেরো হাজার পেরিয়ে যায়।

পুরুষ ও মহিলা ভোটকর্মী মিলিয়ে ১৩৯৯২জন ভোট কর্মী ছাড়া ভোট করা অসম্ভব। সেখানে শুক্রবার পর্যন্ত ভোটকর্মীর ডেটাবেসে ১৪২২৫জন ছিলেন। ফলে অনিবার্য কারণ ছাড়া কাউকেই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।

সমস্যা পুরুষ ভোটকর্মীদের নিয়েই। জানা গিয়েছে কমিশনের নির্দেশ মেনে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদেরও ভোটকর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে। তাঁদের সংখ্যা এগারোশো ছিল। কিন্তু সমস্যা না মেটায়, মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে মত জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের। আগে ২৮৩টি মহিলা পরিচালিত বুথের কথা ভাবা হয়েছিল সেখানে এখন ৩৫০টি বুথ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ ২২৯৩জন মহিলা ভোটকর্মী ডেটাবেসে আছেন। প্রয়োজনের তুলনায় যা পর্যাপ্ত।

ইতিমধ্যেই কর্মীদের প্রথম পর্বের প্রশিক্ষণ হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ হবে। কিন্তু প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পরে নানা কারণ দেখিয়ে অনেক সরকারি কর্মীই ভোটের কাজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চিঠি দিয়েছেন। শুধু আবেদন নয়, কেউ কেউ আইনজীবীর চিঠিও ধরিয়েছেন। কিন্তু ছাড় পাওয়ার আশা ক্ষীণ।

প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “ইমার্জেন্সি সার্ভিস প্রভাবিত না করে সব ধরনেরই কর্মী আধিকারিকের কাছেই ভোটকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নিয়োগপত্র গিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয়েছে।”

আরও পড়ুন