Tilpara Barrage Renovation

তিলপাড়া জলাধার আমূল সংস্কারের উদ্যোগ

২০২৫ সালের বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জলাধারের একাধিক জলবিভাজিকায় ফাটল দেখা দেয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০
সিউড়ির তিলপাড়া জলাধারের এলাকায় পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিদর্শন।

সিউড়ির তিলপাড়া জলাধারের এলাকায় পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিদর্শন। নিজস্ব চিত্র।

তিলপাড়া জলাধার সংস্কার ও যান চলাচলের সম্ভাব্য পথ বের করতে বুধবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে নিয়ে জেলা সেচ দফতর একটি যৌথ পরিদর্শন ও বৈঠক করল। এ দিনের আলোচনা-পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রত্যেক দফতর জেলাশাসকের কাছে নিজেদের বক্তব্য লিখিত আকারে জানাবে। পরবর্তীকালে জেলাশাসক ও রাজ্য সেচ দফতর যৌথ ভাবে সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

১৯৫১ সালে নির্মিত তিলপাড়া জলাধারের সংস্কার নিয়ে গত কয়েক বছরে আলোচনা চলছিল। তবে কোনও স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই ২০২৫ সালের বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জলাধারের একাধিক জলবিভাজিকায় ফাটল দেখা দেয়। জলাধার থেকে জল বেরোনোর অংশটিও মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের উপর দিয়ে যান চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এরপরই শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি সামালানো। রাজ্য সেচ দফতরের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আনা হয় আইআইটি রুরকির অধ্যাপক তথা জলাধার বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদকে। বিষয়টিতে সংযুক্ত হয় কেন্দ্রীয় জল কমিশনও। দফায় দফায় চলে পরিদর্শন-বৈঠক।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে, বালি ভরাট ও পাথরের বোল্ডার দিয়ে সাময়িক মেরামতি হয়। পরিস্থিতি কিছুটা সামলে পুজোর আগে ফের শর্তসাপেক্ষে যান চলাচলের অনুমতি মেলে। মেরামত স্থায়ী সমাধান নয়, ব্যারাজের নিরাপত্তায় পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্এরয়োজন, তখনই জানায় সেচ দফতর। সেইমতো উৎসবের মরসুম শেষে আইআইটি রুরকির বিশেষজ্ঞ দল ফের জলাধারে সমীক্ষা চালায়। কোথায় সংস্কার জরুরি, কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার, কী ভাবে কাজ এগোবে নিয়ে তৈরি হয় বিস্তারিত নকশা।

এখন সেই আলোচনা বাস্তবায়নের মুখে যান চলাচল নিয়ে প্রশ্নের মুখে স্থানীয় প্রশাসন। সমস্যা মেটাতে এ দিন তিলপাড়ায় সেচ দফতরের কার্যালয়ে সদর মহকুমাশাসক, ডিএসপি (আইনশৃঙ্খলা), আইসি সিউড়ি, ওসি মহম্মদবাজার এবং সেচ, পূর্ত দফতর, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক ও এলাকা পরিদর্শন হয়।

জলাধার সংস্কারের প্রায় ৪ মাস যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। জলাধারের উপরের রাস্তা ওয়ান ওয়ে করে ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা, বা জলাধারের উপরের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা, বা ট্রাক মালিক সমিতির তৈরি বিকল্প রাস্তা সরকারি ভাবে ব্যবহার ইত্যাদি আলোচিত হয়। প্রত্যেক দফতর সুবিধা-অসুবিধার দিকগুলি জেলাশাসককে জানাবে ক’দিনের মধ্যে বলে স্থির হয়।

এ দিন আলোচনায় প্রাথমিক ভাবে উঠে আসে, নদীর দু’ধারে প্রচুর রায়তি জমি থাকায় বিকল্প রাস্তা তৈরি এখনই অসম্ভব। সেক্ষেত্রে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে বর্ষার আগে সংস্কার শেষ করতে ট্রাক মালিক সমিতির রাস্তাকে সরকারি ভাবে অধিগ্রহণ করার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও এ বিষয়ে কেউই সরাসরি কিছু বলেননি। তবে ভোট ঘোষণার আগে কাজ শুরুর চেষ্টা চালাচ্ছে সব দফতরই।

আরও পড়ুন