মুরারইয়ের রাজগ্রামে তৃণমূলের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম ।
নির্বাচনী প্রচারে এসে ভোট ভাগ না করার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুরারইয়ের রাজগ্রামে দলীয় প্রার্থী মোশারফ হোসেনের সমর্থনে সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘তৃণমূল ছাড়া অন্য কাউকে ভোট নয়। নির্দলদের আবার দল হয় নাকি? ওদের ভোট নয়!’’
এ দিন জনসভায় প্রায় কুড়ি হাজার কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। দুপুর একটায় সভা শুরু করার কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা পরে পৌনে তিনটে নাগাদ সভামঞ্চে পৌঁছন মমতা। মঞ্চে এসেই তিনি রোদ এবং প্রচণ্ড গরম বাতাসের জন্য সভাস্থলে আসতে দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেন। ১৮ মিনিটের বক্তব্যে বক্তব্যে তৃণমূল আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যবসাথী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প-সহ ১০৫ টি প্রকল্প চালু আছে বলে দাবি করেন মমতা।
মমতা বলেন, ‘‘আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়েছি। পাচ্ছেন তো?’’ দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ারে স্বাস্থ্যও করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে মমতার কটাক্ষ, ‘‘ওরা মিথ্যা কথা বলছে। তিন হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলছে। দিল্লিতে তো আড়াই হাজার টাকা দেব বলেছিল। দিয়েছে কি? বিহারে দশ হাজার টাকা দিয়ে আবার ফেরত নিয়েছে।’’ বিজেপিকে বিঁধে উপস্থিত জনতাকে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি ফর্ম ফিল আপ করে অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে নিচ্ছে। মনে ওরা আপনার টাকা লুট করে নেবে।’’
মুরারই বিধানসভা এলাকায় বহু শ্রমিক বাংলার বাইরে কাজ করতে যান। সেখানে সভায় ভিন্ রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় কথা বললে মারা হচ্ছে। এই ভোট আপনার ভাষাকে রক্ষা করার ভোট।’’ সব কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দেন মমতা।
বিজেপি ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে মমতা অভিযোগ করেন, ‘‘নির্বাচনের আগে অনেককে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করেছে। তালিকা তৈরি করে রেখেছে।’’ মমতার দাবি, ‘‘আমরা আদালতে যাব। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে প্রত্যেকটা মামলায় লড়ব। শুধু তৃণমূলকে লক্ষ্য করা হয়েছে।’’ এসআইআরের নামে বেছে বেছে তৃণমূলের ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ মমতার। তিনি বলেন, ‘‘৩২ লক্ষ নাম সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে তুলেছি। বাকিও তুলব।’’
মমতাকে এ দিনের সভা থেকে কংগ্রেসের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শোনা যায়নি। এমআইএমের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘ওরা বিজেপির বি টিম। ওরা ধর্মকে বিক্রি করে রাজনীতি করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আজকে যাঁরা বিজেপির কথায় চলছেন তাঁদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি আগামী দিন তাদের খুঁজে বের করে নারকেলের নাড়ু খাওয়াব।’’
মমতার আগে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ নিয়ে কড়া বার্তা দেন সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর সামনেই সম্প্রতি দুই গোষ্ঠীর বিবাদ সামনে এসেছিল। এ দিন নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘দলকে বলব দিদি আসলে বলতে, দলে থেকে পাশে বসে যদি ভাবেন কংগ্রেসের হয়ে ভোট করব, তাঁদের এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যেন তাঁদের ছেলেমেয়েরা বিরোধিতা করতে না পারে।’’ সহ প্রতিবেদন: রিন্টু পাঁজা