—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন ছিল পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের মা জ্যোৎস্না বিবির নাম। একই ভাবে বিবেচনাধীন বর্তমানে বাংলাদেশে আটকে থাকা সুইটি বিবির মা লাজিনা বিবি ও মামাতো ভাই আমির খানেরও। কিন্তু কমিশন অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি করার পর ২৪ ঘণ্টার বেশি পেরোলেও এখনও তাঁরা জানতে পারলেন না ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকছে কি না। নাম বাদ পড়ায় উদ্বেগে নলহাটির বাসিন্দা ভারতীয় সেনার এক জওয়ান এবং কলকাতা পুলিশের এক কর্মীও।
সুনালী ও সুইটির পরিজনেরা জানান, সোমবার মাঝরাতে কমিশন অতিরিক্ত যে তালিকা বের করার কথা জানিয়েছে সেখানে কিছু দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন সূত্রে খবর, পাইকর এলাকার একটি বড় অংশের ভোটারদের নিষ্পত্তি এখনও বাকি। সেই কারণেই দেখা যাচ্ছে না। তাতেই উদ্বেগ বাড়ছে তাঁদের।
দিল্লিতে কর্মরত অন্তঃসত্ত্বা পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী, তাঁর স্বামী দানিশ, দম্পতির নাবালক ছেলে এবং একই এলাকার বাসিন্দা সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক পুত্রকে বাংলাদেশি অভিযোগ তুলে গত বছর জুন মাসে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। বিস্তর আইনি লড়াই এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অবস্থানের পর সুনালী এবং তাঁর নাবালক পুত্রকে ডিসেম্বরে দেশে ফিরিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখানে ফিরে এক পুত্রসন্তানের জন্মও দিয়েছেন তিনি। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় বীরভূমে সুনালীর ভোটার কার্ড করার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর।
সুনালী খাতুনের বাবা ভদু শেখ ও তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না বিবির নাম ছিল ২০০২-এর তালিকায়। তাই উভয়ের নামই ছিল খসড়া তালিকায়। কিন্তু নামের বানানে ভুল থাকায় চূড়ান্ত তালিকায় জ্যোৎস্না বিবির নাম বিবেচনাধীন আসে। ভদু বলছেন, ‘‘শুনানিতে ডাক এসেছিল স্ত্রীর। আমিই সব নথি জমা করেছিলাম। তারপরেও কেন স্ত্রীর নামের পাশে কেন ছাপ মারা (বিবেচনাধীন) বুঝিনি। এখনও তালিকা না বের হওয়ায় উদ্বেগে আছি।’’
বাংলাদেশেই আটকে সুনালীর স্বামী দানিশ এবং পাইকরের বাসিন্দা সুইটি বিবি তাঁর দুই নাবালক সন্তান। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পরিজনেরা। তার সঙ্গেই ভোটার তালিকায় নাম উঠবে কি না তাও ‘বিবেচনাধীন’ সুইটি বিবির মা লাজিনা বিবি। শ্বশুরবাড়ি ঝাড়খণ্ডে হলেও, লাজিনা পাইকরের ভোটার। তাঁর নামের বানানে ভুলের জন্য বিবেচনাধীন। এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় চিন্তায় আছেন তিনি। একই রকম উদ্বেগে সুইটির মামাতো ভাই আমির খানও। তাঁর নামও বিবেচনাধীন তালিকায়। তিনি জানালেন, ‘‘অন্য এলাকায় বিবেচনাধীনদের তালিকায় নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাদের কী হবে সেটা তো জানতেই পারলাম না।’’ ওই পার্টের বিএলও আজমিরা খাতুনের নিজের নামও বিবেচনাধীন।
বিবেচনাধীন থাকার পরে নাম বাদ গিয়েছে নলহাটি ২ ব্লকের বাঁদখালা গ্রামের ইদগাহ পাড়ার বাসিন্দা, ভারতীয় সেনার জওয়ান তোজাম্মেল হকের। তিনি বলেন, ‘‘নামের ভুল থাকার কারণে আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সে সময় আমি পঞ্জাবে ডিউটিতে ছিলাম। তাই যেতে না পারায় আমি নথিপত্র দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। অতিরিক্ত তালিকায় দেখি আমার নাম বাদ পড়েছে।’’ তাঁর ক্ষোভ, ‘‘পরিবার থেকে বহু দূরে দেশের সুরক্ষার কাজে থাকতে হয়। সেই আমার নামই বাদ পড়ল!’’
নাম বাদ গিয়েছে বাঁদখালা গ্রামের মোড়পাড়া এলাকায় বাসিন্দা, কলকাতা পুলিশের কর্মী মহম্মদ নুরুল হুদার। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে কলকাতায় পুলিশে কনস্টবল পদে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার ২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল, বাবারও নাম ছিল। আমরা পাঁচ ভাই। আমাদের দুই ভাইয়ের এই সমস্যা হয়েছে আর তিন ভাইয়ের সমস্যা মিটেছে।’’ তাঁরও ক্ষোভ, ‘‘আমরা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি, সেখানে আমার নামটা বাদ গিয়েছে! কিছু বলার নেই।’’