দিল্লির আম মেলায়। নিজস্ব চিত্র ।
দিল্লির দরবারে আমপ্রেমীদের মন জয় করল বাঁকুড়ার আম্রপালি ও মল্লিকা। শনিবার থেকে দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক বঙ্গীয় সমাজে শুরু হয়েছে ‘বঙ্গ আম মেলা ও হস্ততাঁত-হস্তশিল্প প্রদর্শনী ২০২৬’। সেখানেই গিয়েছেন বাঁকুড়ার কয়েক জন আম চাষি। জেলার আম মেলায় ভালই কদর পাচ্ছে বলে দাবি।
এ রাজ্যের রেসিডেন্ট কমিশনারের দফতর ও উদ্যানপালন দফতরের যৌথ উদ্যোগে ২০১৩ থেকে দিল্লিতে ওই মেলা হচ্ছে। মূলত রাজ্যে ফলা বিভিন্ন প্রজাতির আমের বাণিজ্যিক প্রসারে এই উদ্যোগ। মেলায় যোগ দেওয়া বাঁকুড়ার শালতোড়ার আম চাষি বিজয় চিতি ফোনে বলেন, “বাঁকুড়ার আম্রপালি এখন একটি ব্র্যান্ড। দিল্লিতে চাহিদা যথেষ্ট। জেলার মাটিতে আম্রপালি ও মল্লিকা প্রজাতির আম ফলেও ভাল।”
বিজয়ের মতে, মেলায় যোগ দেওয়ার পরে থেকে গত তিন বছরে বাঁকুড়ার আমের রফতানি বেড়েছে। দিল্লির আসর থেকে ভিন্ রাজ্যের বহু ব্যবসায়ী আম কিনছেন। জেলার উদ্যানপালন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “আগে ২০-২৫ টাকায় আম বিক্রি করতেন চাষিরা। এখন ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিকোচ্ছে। ফলন, রফতানি দুই-ই বেড়েছে।”
চাষিরা জানান, আম্রপালি বাঁকুড়া ছাড়া সে ভাবে কোথাও পাওয়া যায় না। দিল্লিনিবাসী বাঙালি দেবজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি কখন বাঁকুড়ার আম্রপালি এই মেলাতে আসবে।”
মিয়াজাকি, আলফানসোর চকচকে বিজ্ঞাপনের ভিড়ে আগে এক কোণে পড়ে থাকত বাঁকুড়ার আম্রপালি। তবে এখন দিকে দিকে আম্রপালির চাহিদা। গত পাঁচ বছর ধরে আম চাষ করছেন শালতোড়ার দেবাশিস চিতি বলেন, “এই আম চাষে যথেষ্ট রোজগারহয়। জেলার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলতে পারে।” বাঁকুড়ার উদ্যানপালন দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “জেলায় এখন মিয়াজাকি, আলফানসো-সহ ১৫-১৬ রকম আম চাষ হচ্ছে। গোটা দেশেই সে সবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।”