purulia

টোটোর নিয়ন্ত্রণে একমুখী পথ শহরে

জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শহরে টোটোর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তার জেরে যানজট হচ্ছিল। লোকজনের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৭
টোটোর জেরে যানজট।

টোটোর জেরে যানজট। ফাইল চিত্র।

রাস্তা দখল মুক্ত করতে হকার উচ্ছেদ অভিযান আগেই শুরু করেছে প্রশাসন। এ বার পুরুলিয়া শহরের যানজটের অন্যতম কারণ টোটোর রাশ ধরতেও উদ্যোগী হল পুলিশ। আপাতত ভিক্টোরিয়া স্কুল মোড় থেকে পোস্টঅফিস মোড় পর্যন্ত রাস্তায় টোটোর জন্য ‘ওয়ান ওয়ে’ ব্যবস্থা চালু করেছে পুরুলিয়া জেলা ট্র্যাফিক পুলিশ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টোটো শুধুমাত্র ভিক্টোরিয়া স্কুল মোড় থেকে পোস্টঅফিস মোড় পর্যন্ত একমুখী পথে চলাচল করতে পারবে। ওই সময়ে উল্টো পথে ফিরতে পারবে না।

জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শহরে টোটোর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তার জেরে যানজট হচ্ছিল। লোকজনের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখেই অফিস সময়ে যানবাহনের চাপ কমাতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।”

প্রশাসনের দাবি, পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, “প্রথম কয়েক দিনের অভিজ্ঞতায় যানজট অনেকটাই কমেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে শহরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেও একই ব্যবস্থা চালু করা হবে।”

পুরুলিয়া শহরে টোটোর লাগামছাড়া চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং এবং ট্র্যাফিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগ নতুন নয়। এর জেরে শহরের প্রধান রাস্তায় যানজট হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছিল বিভিন্ন মহল। ভিক্টোরিয়া স্কুল মোড় থেকে পোস্টঅফিস মোড় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাতেই জেলাশাসকের দফতর, পুলিশ সুপারের দফতর, সদর হাসপাতাল, হেড পোস্টঅফিস, ব্যাঙ্ক, দমকল কেন্দ্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই রাস্তার ধারে রয়েছে। ফলে অফিস সময়ে এই রাস্তায় যানবাহনের চাপ থাকে।

নতুন নিয়মে শহরের বহু বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কাপড়গলির ব্যবসায়ী রুদ্র দত্ত বলেন, “টোটোর বেপরোয়া চলাচলেই শহরে বেশির ভাগ জায়গায় যানজট তৈরি হয়। অনেক টোটো চালক ট্র্যাফিক নিয়মও মানেন না। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।”

তবে সকলেই যে খুশি, তা নয়। দূরদূরান্ত থেকে শহরে কাজে আসা মানুষের একাংশের দাবি, টোটোই ছিল সরকারি অফিসে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজমাধ্যম। হুড়ার বাসিন্দা শঙ্কর মুদি বলেন, “আগে বাস থেকে নেমেই টোটো পাওয়া যেত। এখন নিয়মের কড়াকড়িতে বাসস্ট্যান্ডের কাছে টোটো নিয়ে চালকেরা আসছেন না। খুব সমস্যা হচ্ছে।’’

উদ্বেগে টোটোচালকরাও। মাঙ্গুড়িয়ার টোটোচালক চন্দন বাউরি বলেন, “মূল রাস্তায় যেতে না পারায় যাত্রী কমে গিয়েছে। রোজগারও অনেকটাই কমেছে। ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”

এর আগেও পুরুলিয়া পুরসভা শহরে টোটো নিয়ন্ত্রণে একাধিক বার উদ্যোগী হয়েছিল। গ্রাম ও শহরের টোটো আলাদা করে চিহ্নিত করা। গ্রামের টোটো শহরে ঢোকা বন্ধ করা, টোটো চালকদের লাইসেন্স যাচাই করা, নির্দিষ্ট রুটে টোটো চালানোর ব্যবস্থার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন, “নির্দিষ্ট রুটে টোটো চালানোর উদ্যোগ সফল হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত নজরদারির অভাবে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ বার প্রশাসন যদি ধারাবাহিক ভাবে নজরদারি চালায়, তাহলে শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

পরিযায়ীর দেহ

বরাবাজার: অন্ধপ্রদেশ থেকে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হওয়া শ্রমিকের দেহ শুক্রবার বাড়িতে ফিরল। মৃত শ্রমিকের নাম বাপি সিংহদেব (২৫)। তাঁর বাড়ি বরাবাজারের বাগালবাঁধ গ্রামে। পরিবার সূত্রের খবর, গত পাঁচ মাস আগে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। রবিবার বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হন। সোমবার বাড়িতে খবর আসে ট্রেন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন