Purulia Tourism Hampered

উধাও ঠান্ডা, ভাটা পর্যটনে

কলকাতার তন্ময় সরকার গাড়ির ভিতর থেকেই বলেন, “ভেবেছিলাম কলকাতার থেকে বিষ্ণুপুর কিছুটা ঠান্ডা পাব।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪২
প্রায় পর্যটক শূন্য বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চ।

প্রায় পর্যটক শূন্য বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চ। নিজস্ব চিত্র ।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতেই ঠান্ডা উধাও হয়ে যাওয়ায় কপালে হাত পড়েছে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের। সপ্তাহান্তের ছুটিতেও ভিড় দেখা গেল না দুই জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে।

রবিবার পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাঁকুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে অল্প স্বল্প লোকজনকে দেখা গেলেও দুপুরে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আশঙ্কা, ঠান্ডা ফিরে না এলে এ বার তাঁদের পেটে টান পড়বে।

এ দিন সকাল থেকেই বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চ, জোড়শ্রেণি, শ্যামরাই, জোড়বাংলা, লালজিউ মন্দির চত্বর ছিল শুনশান। বেলায় গরম বাড়ায় পর্যটকদের কয়েকজনকে গাড়ির ভিতর থেকেই মন্দির দর্শন করতে দেখা গেল। কলকাতার তন্ময় সরকার গাড়ির ভিতর থেকেই বলেন, “ভেবেছিলাম কলকাতার থেকে বিষ্ণুপুর কিছুটা ঠান্ডা পাব। কিন্তু দুপুরে এত গরম যে গাড়ি থেকে নামতেই ইচ্ছা করছে না।” বীরভূমের রামপুরহাট থেকে প্রতি বছরের এ বারও বিষ্ণুপুরে এসেছেন জয়দেব সিংহ। তিনি জানান, সোমবার পর্যন্ত বিষ্ণুপুরে তাঁদের থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু গরম হাওয়া বইছে। তাই মুকুটমণিপুরে চলে যাচ্ছেন।

এ দিন মুকুটমণিপুরে পর্যটকদের মাত্র দু’টি বাস ও প্রায় দশটি ছোটগাড়ি এসেছিল। এই নিরিবিলি পরিবেশ আবার কারও কারও ভাল লেগেছে। বীরভূমের লাভপুরের তপতী লাহা বলেন, ‘‘সপরিবারে বিষ্ণুপুর ঘুরে দুপুরে মুকুটমণিপুরে এসেছি। ভিড় তেমন নেই। নৌকায় জলাধার ঘুরে ভাল লাগল।’’

পুরুলিয়ার জয়চণ্ডী পাহাড়, গড়পঞ্চকোট, বড়ন্তী জলাধার, অযোধ্যাপাহাড়ে অন্য বছরে এ সময়ে কিছু ভিড় থাকলেও এ বার তা নেই। মুরগুমায় বাড়ি বেগুনকোদর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অমর মাহাতোর। তাঁর কথায়, ‘‘অন্য বছরে শীত শীত ভাব থাকে বলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় ভাল থাকে। এ বারে ঠান্ডা কমে যাওয়ায় পর্যটকেরাও মুখ ফেরাচ্ছেন।’’

সে কারণে চিন্তায় পড়েছেন অযোধ্যাপাহাড়ের পেশায় গাইড সুদীপ সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘পর্যটকদের ঘুরিয়ে কিছু আয় হয়। এ বার এত তাড়াতাড়ি পর্যটকেরা মুখ ফেরালে মুশকিলে পড়ে যাব।’’ মুকুটমণিপুরের নৌচালক, তারাপদ সর্দার, আইসক্রিম বিক্রেতা টোটন সিং-এর আক্ষেপ, ‘‘এখানে মূলত শীতেই ভিড় হয়। শনিবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে বলে কিছুটা ভিড় হলেও রবিবার মাছি তাড়ানোর মতো অবস্থা গেল।’’

বিষ্ণুপুরের হস্তশিল্পের বিক্রেতা সরমা পাত্র বলেন, ‘‘এত তাড়াতাড়ি পর্যটক আসা কমে গেলে আমাদের বেচাকেনায় ভাটা পড়বে।’’ বিষ্ণুপুর হাইস্কুল এলাকার এক হোটেল মালিক জানান, পর্যটক ভাল পাবেন ধরে নিয়ে রান্না করেছেন। কিন্তু পর্যটক তেমন না আসায় তিনি ফাঁপরে পড়েছেন।

বিষ্ণুপুর লজ ও হোটেল মালিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক অসিত চন্দ্র বলেন, ‘‘শনিবার পর্যন্ত বিষ্ণুপুরে ভালই ভিড় ছিল। কিন্তু সোমবার সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও রবিবার আচমকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না। মনে হয় শিবরাত্রির ব্রত ও গরমের জন্য অনেকে চলে গেলেন।’’ তবে বিষ্ণুপুরের সরকারি ট্যুরিস্ট লজের ম্যানেজার মুরারীমোহন দাস জানিয়েছেন, মার্চ পর্যন্ত তাঁদের বুকিং ভালই রয়েছে।

আরও পড়ুন