শুনশান রানিবাঁধের ঘোড়াধরার পশুহাট। নিজস্ব চিত্র ।
বেআইনি ভাবে গরু, মোষের কেনাবেচা বন্ধের নির্দেশের জেরে জেলার পশু-হাটগুলি কার্যত না বসায় ধাক্কা লেগেছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। কেবল পশু ব্যবসায়ীরা নন, সাধারণ পশুপালক থেকে চাষি, গোয়ালাদের একাংশও তার ভুক্তভোগী। আপাতত কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, নজর রয়েছে সবার।
বাঁকুড়ার বহু গ্রামেরই পশুপালকেরা ব্যাঙ্ক বা সমবায় থেকে ঋণ নিয়ে বাছুর কিনে বাড়িতে লালন পালন করে বড় করেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। রোজগারের সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের। খাতড়ার শঙ্কর মাহাতো জানান, ঋণ নিয়ে চারটি বাছুর কিনেছিলেন মাস আটেক আগে। বড় করেছিলেন হাটে বিক্রির জন্য। তবে হঠাৎ হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন।
শঙ্কর বলছেন, “বাড়িতে গরু রাখার যথেষ্ট খরচ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সেই খরচ টানা মুশকিল। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলাম। এখন বিক্রি করতে না পারলে কী ভাবে ঋণ মেটাব, কী ভাবে গরু রাখার খরচ জোগাব, উত্তর পাচ্ছি না।” একই সমস্যার কথা জানাচ্ছেন রানিবাঁধের প্রফুল্ল মাহাতো, বাবুলাল মাহাতোরাও।
পশুহাট বন্ধে আতান্তরে দুধ বিক্রেতারা। সিমলাপালের এক দুধ বিক্রেতা অজিত ঘোষ জানান, জার্সি গরু বেশি দুধ দেয়। রানিবাঁধের ঘোড়াধরা হাটে ওই গরু মিলত। বছর তিনেক আগে সেখান থেকে দু’টি গরু কিনেছিলেন। বর্তমানে বাড়িতে দু’টি বলদ রয়েছে। সেগুলি হাটে বিক্রি করে জার্সি গরু কেনার কথা ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, “বলদ বাড়িতে রেখে তাদের খাওয়া খরচ বহন করা সম্ভব নয়। বলদ আমাদের কাজেও লাগে না। হাট চালু না হলে সেগুলি বিক্রিও করতে পারব না। খুব সমস্যায় পড়েছি।”
খরিফ মরশুমের মুখে চাষের জন্য বলদ কিনতে না পরে সমস্যায় পড়েছেন বহু কৃষকও। রানিবাঁধের এক চাষি সন্তোষ মণ্ডল বলেন, “জমির পরিমাণ কম। তাও আবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তাই ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে চাষ দেওয়া যায় না। চাষের আগে এক জোড়া করে বলদ কিনি। চাষের পরে আবার বিক্রি করে দিই। আশপাশের কয়েকটি জমিতেও ওই বলদ খাটিয়ে কিছু রোজগার হয়। হাট না চালু হলে বলদ কিনব কী ভাবে!” বাড়িতে রাখার সমস্যা ও অর্থনৈতিক কারণে দু’টি গরু বিক্রির কথা ভাবছিলেন হিড়বাঁধের চাষি কার্তিক টুডুও। তবে তাঁর আক্ষেপ, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউই গরু কিনতে চাইছেন না। বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “পশু-হাট গ্রামীণ অর্থনীতির একটা স্তম্ভ। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।” পাল্টা জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বেআইনি ভাবে হাটে গরু, মোষের বেচাকেনা আটকাতে সরকার পদক্ষেপ করেছে। নিয়ম মেনে বৈধ ভাবে হাট চালাতে
কোনও বাধা নেই।