চিকিৎসা চলছে জখম ভেড়াদের। কাশীপুরের কাদুড়ি গ্রামে। নিজস্ব চিত্র ।
বছর ঘোরার মুখে ফের বুনো জন্তুর আক্রমণে প্রাণ গেল গবাদি পশুদের। মৃত্যু হয়েছে ন’টি ভেড়ার। জখম আরও ন’টি ভেড়া ও একটি ছাগল। শুক্রবার রাতে পুরুলিয়ার কাশীপুর ব্লকের কাদুড়ি গ্রামের ঘটনা। এ দিন ঘটনাস্থলে যান বন দফতর ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা। জখম ভেড়া ও ছাগলগুলির চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। নেকড়ে বা শেয়ালের মতো কোনও শিকারি জন্তুর আক্রমণে ওই ঘটনা বলে অনুমান আধিকারিকদের। এলাকায় যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, তার জন্য প্রচার শুরু করেছে পুলিশ।
কাদুড়ি গ্রামের একাংশে রয়েছে কয়েকটি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। সেখানেই বাড়ি নগেন্দ্রনাথ সরেনের। তাঁর বাড়ির চত্বরে একটি মাটির কুঁড়েঘরে থাকে ভেড়া ও ছাগল। নগেন্দ্রনাথ বলেন, “শুক্রবার রাত ১২টার পরে আমার মা উঠে দেখে বাড়ির উঠোনে তিনটি ভেড়া রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে। পরে ঘরে গিয়ে দেখি, সব ভেড়া ও ছাগলগুলি জখম অবস্থায় পড়ে। মারা গিয়েছে চারটি শাবক-সহ ন’টি ভেড়া। গুরুতর জখম আরও ন’টি ভেড়া ও একটি ছাগল।” তাঁর দাবি, গত ৫০ বছর ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার পশুপালন করছেন। কখনও এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেনি। এলাকাবাসীরও একাংশের দাবি, গ্রামের এক পাশে রয়েছে জঙ্গল। তবে সেখানে তাঁরা কখনও বড় কোনও শিকারি প্রাণী দেখেননি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রঘুনাথপুর ২ ব্লকের গোবরান্দা গ্রামেও বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কয়েকটি ভেড়া মারা যায়। এ বারের আক্রমণের ধরনের সঙ্গে তার মিল রয়েছে বলে দাবি বন দফতরের। এ দিন গ্রামে যান কাশীপুরের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার নীলাদ্রি সখা। বনকর্মীদের সঙ্গে এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। মৃত ভেড়াগুলির পাশে একটি পায়ের ছাপ মিলেছে। কংসাবতী (উত্তর) ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, “পায়ের ছাপ অস্পষ্ট। তবে প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে তা নেকড়ে জাতীয় কোনও প্রাণীর হতে পারে। ওই ছবি প্রাণী বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মৃত ও জখম ভেড়াগুলি দেখে মনে হচ্ছে, নেকড়ে বা বড় শেয়াল জাতীয় প্রাণী দল বেঁধে সেখানে ঢুকেছিল। যেগুলিকে খায়নি, শুধু আঘাত করে চলে গিয়েছে। খাওয়ার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, ভেড়ার মতো বড় কোনও প্রাণী শিকার করে খাওয়ার অভ্যাস নেই। শুধু শিকারি প্রাণীর সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই আক্রমণ হয়েছে।
এ দিন গ্রামে যান কাশীপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা। তিনি বলেন, “বন দফতর ও পুলিশকে এলাকার মানুষকে সতর্ক করা ও ঘটনার তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছি।” তিনি আরও জানান, ওই পরিবারের অন্যতম পেশা প্রাণিপালন। তাই তাঁরা যেন ক্ষতিপূরণ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। গ্রামে গিয়েছিলেন কাশীপুর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা এলাকার তৃণমূল নেতা জয়ন্ত রাউতও। তিনি বলেন, “সরকারি নিয়ম মেনে যাতে ওই পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়, দেখা হবে।” বন দফতর, বনসুরক্ষা কমিটি ও পুলিশ একত্রে গ্রামে নজরদারি শুরু করেছে। রাতেও নজরদারি চলবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফাঁদ ক্যামেরা বসানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন দফতর। মৃত ভেড়াগুলিকে ময়না তদন্তে পাঠানো হতে পারে।