Visva Bharati University

তথ্যচিত্রে কোড়া ভাষা, প্রদর্শন বিশ্বভারতীতে

ছবিটি নির্মাণের সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন বিশ্বভারতীর ওই বিভাগের দুই প্রাক্তনী জগন্নাথ বারুই এবং শোয়েব আজম।

দয়াল সেনগুপ্ত 
শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৯
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল চিত্র।

প্রায় বছর খানেক আগে শান্তিনিকেতনের কোপাই নদী ঘেঁষা কমলাকান্তপুর আদিবাসী পল্লিতে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র ‘গোট ফিস স্নেক স্প্যারো’ তৈরি হয়েছিল। দেশ বিদেশের একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হয়েছে ছবিটি। কোড়া ভাষা ও সংস্কৃতি বাচাঁতে তৈরি ২৯ মিনিটের ওই তথ্যচিত্র এ বার দেখানোর হবে, বিশ্বভারতীয় মাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে। ২০ তারিখ, শুক্রবার বিকেলে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনে থাকার কথা কোড়া পাড়ার বাসিন্দাদেরও।

ছবিটি নির্মাণের সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন বিশ্বভারতীর ওই বিভাগের দুই প্রাক্তনী জগন্নাথ বারুই এবং শোয়েব আজম। ২০২১-২৩ সালের শাখার স্নাতকোত্তরের ওই দুই ছাত্রের ভাবনা এবং গবেষণার সূত্র ধরে ওই ছবির চিত্রনাট্য রচনা হয়। শোয়েব আবার ওই তথ্যচিত্রের সহকারী পরিচালকও। ছবির পরিচালক অভ্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি পুণে ফিল্ম ইন্টিটিউট থেকে ছবি নির্দেশনার পাঠ নিয়েছেন। তথ্যচিত্রের চিত্রগ্রাহক বা সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন স্নেহাশিস মিত্র। বাংলা ছবির সঙ্গে তিনি যুক্ত।

জগন্নাথ ও শোয়েব জানান, স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা করার সময় ছুটির দিনে শান্তিনিকেতনের আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন তাঁরা। তখন জগন্নাথই জানতে পারেন বিশ্বভারতীয় অদূরে যে আদিবাসী পল্লি, তাঁরা সাঁওতাল সম্প্রদায়ভুক্ত নন। তাঁদের ভাষাগত পার্থক্যও রয়েছে। এ কথা জানার পরই কোড়া জনজাতি ও তাঁদের সংস্কৃতি ও ভাষা নিয়ে উৎসাহী হয়ে উঠেন শোয়েব, জগন্নাথ। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ইউনেস্কোর বিলুপ্তপ্রায় ভাষার তালিকায় রয়েছে ওই ভাষাটিও। কয়েক মাসের গবেষণা চালান তাঁরা। তার পরে যে তথ্য মেলে, তা জানতে পারেন স্নেহাশিস ও অভ্রদীপও। তারপরই তথ্যচিত্রটি নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠেন ওঁরা।

তথ্যচিত্র নির্মাতারা জানাচ্ছেন, ওই ভাষার কোনও লিপি নেই। কথ্য ভাষা মায়ের মুখ থেকেই একটি প্রজন্মের পর প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। কিন্তু সেখানেই ব্যাঘাত ঘটছে। যেহেতু কোড়া সম্প্রদায়ের শিশু প্রাথমিকের পাঠ নেয় বাংলা মাধ্যম স্কুলে, রুজিরুটির জন্য অনেককে অন্য এলাকায় যেতে হয়, তাই সব পরিবার কোড়া ভাষায় কথা বলে না। ফলে বর্তমান প্রজন্ম এই ভাষা শিখছে না। নির্মাতারা বললেন, ‘‘যখন একজন প্রবীণ মারা যান, তাঁর সঙ্গে কতগুলি শব্দেরও মৃত্যু হচ্ছে। সেটাই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি।’’

গত বছর মে মাসে কানাডায় দেখানো হয় তথ্যচিত্রটি। এ ছাড়া সেটি প্রদর্শিত আমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ভারতের কেরলে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টরি অ্যান্ড শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও তা দেখানো হয়। পরিচালক অভ্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ‘‘আমরা তথ্যচিত্রে কিছু কথা, গান রেকর্ড করেছি। হয়তো আগামী দিনে সেই শব্দ কথা আর শোনা যাবে না।’’ তাঁর সঙ্গে সহমত স্নেহাশিসও। শোয়েব বললেন, ‘‘একটা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বনভূমি নিশ্চিন্ন হয়ে যাচ্ছে এটা চোখে দেখা যায়। কিন্তু একটি ভাষার মৃত্যু ঘটছে সেটা বোঝা শক্ত। সেই বিষয়টিই আমরা খুঁজেছি।’’

আরও পড়ুন