DA Case Verdict

ডিএ মামলার রায় শুনে মিষ্টিমুখ আন্দোলনরত সরকারি কর্মীদের! অবস্থানমঞ্চে উঠছে গর্জন-ধ্বনি, রায় নিয়ে কোন পক্ষ কী বলছে?

বৃহস্পতিবার আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর দৃশ্যতই খুশি আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা। ধর্মতলায় তাঁদের অবস্থানমঞ্চে লাড্ডু বিলি শুরু হয়েছে। ডিএ মামলায় অন্যতম পক্ষ সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২২
রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-নিয়ে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-নিয়ে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মিষ্টিমুখ শুরু হয়েছে ধর্মতলার শহিদ মিনারে অবস্থানরত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চে। ২০০৮ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে ৪০ শতাংশের ফারাক রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই ফারাকের বিষয়ে কোনও রায় দেয়নি। সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎগুপ্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, “বকেয়া এরিয়ারের ২৫ শতাংশ সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে দিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এখনও আমাদের ৪০ শতাংশ বকেয়া ডিএ (কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র ফারাক) প্রাপ্য রয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার লড়াই করে বুঝে নেব।”

Advertisement

বৃহস্পতিবার আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর দৃশ্যতই খুশি আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা। ধর্মতলায় তাঁদের অবস্থানমঞ্চে লাড্ডু বিলি শুরু হয়েছে। ডিএ মামলায় অন্যতম পক্ষ সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আমরাও যাতে কমিটির সঙ্গে বসতে পারি, সেই আবেদন করব। সরকারের আর্থিক স্বাস্থ্য যে মোটেই খারাপ নয়, বরং (ডিএ) দেওয়া যায়— আমরা সেই তথ্য তুলে ধরব।” সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি। ভাস্কর বলেন, “কর্মচারী সমাজ পথে না-নামলে এই ২৫ শতাংশ তাঁরা পাবেন না। ৩১ মার্চের মধ্যে ঘাড় ধরে সরকারকে এই রায় মানতে বাধ্য করব।”

অতীতেও ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু তা সেই সময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, সেই কারণেই আদালতের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকারের উপরে তারা পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন তিনিও। শুভেন্দুর কথায়, “ডিএ মামলায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করল সুপ্রিম কোর্ট।”

বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বারংবার তিনি বলে এসেছেন যে, ‘ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়’। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল যে, ডিএ হল কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার। কোনও অনুদান নয়।” শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে আইনজীবী দাঁড় করিয়েছে সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও। সংগঠনের অন্যতম নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। এটাই হওয়ার ছিল। দীর্ঘ দশ বছরের লড়াইয়ের পর এই জয় শুধু আমাদের রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারীদের জয় নয়, সারা দেশের কর্মচারীদের জয়। আর কোনও রাজ্য সরকার এই জঘন্য কর্মচারী বিরোধী সরকারের পথ অনুসরণ করতে সাহস পাবে না।”

অন্য দিকে, তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েকের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিনই বলেননি যে সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ্যভাতা পাবেন না। সুযোগ মতো মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই সরকারি কর্মচারীদের দাবি পূরণ করতেন বলে মনে করছেন তিনি।

তৃণমূল সমর্থিত ওই সংগঠনের তরফে নায়েক বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। মুখ্যমন্ত্রী তো কোনও দিন বলেননি যে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেবেন না। আমাদের বিশ্বাস সময়-সুযোগ বুঝে তিনি নিশ্চয়ই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র দাবি পূরণ করতেন। কিন্তু এখন যখন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তখন রাজ‍্য সরকার যে ভাবে সেই নির্দেশ পালন করবে, সেই প্রক্রিয়ার পাশে আমরা থাকব।”

Advertisement
আরও পড়ুন