Revenue

রাজস্ব ক্ষতি ঠেকাতে এগিয়ে তিন জেলা

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২০ সাল থেকে বীরভূমের পাথর থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। যেমন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা করে রাজস্ব পেয়েছিল নবান্ন। অর্থাৎ গোটা বছরে সেই পরিমাণ প্রায় ১০৮ কোটি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৪

—প্রতীকী চিত্র।

বালি-পাথরকে কেন্দ্র করে অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধের ইঙ্গিত গোড়াতেই দিয়েছিল নতুন সরকার। রাজস্ব লোকসানের (রেভিনিউ লিকেজ) সেই মাধ্যমগুলিই সরকারের আয় বাড়ানোর অন্যতম একটি হাতিয়ার হতে চলেছে। সরকার গঠনের দু’মাসের মধ্যে এই প্রশ্নে আপাতত দু’টি জেলার অগ্রগতি সরকারের কাছে যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। সেই কারণে গত দু’টি বৈঠকে বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমানের উদাহরণ টেনে বাকি জেলাগুলিকে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২০ সাল থেকে বীরভূমের পাথর থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। যেমন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা করে রাজস্ব পেয়েছিল নবান্ন। অর্থাৎ গোটা বছরে সেই পরিমাণ প্রায় ১০৮ কোটি। ২০২১-২২ আর্থিক বছরে তা বেড়ে হয় প্রায় ১২০ কোটি (মাসে গড়ে ১০ কোটি টাকা প্রায়) টাকায়। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায় হয় ২৬৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সেই পরিমাণ কমে হয় ১৪৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ বছরে তা আরও কমে হয় প্রায় ১৩২ কোটি টাকা। কিন্তু এ বছর মাত্র এক মাসেই (মে-র মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি) প্রধানত ওই জেলার পাথর থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। অন্য আরও ক’টি কর ধরলে তা প্রায় ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শুধু একটি জেলা থেকেই বছরে কমবেশি ৯০০ কোটি টাকা আয় করতে পারে রাজ্য।

পাশাপাশি, গত বছরের গোটা সময়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বালির অবৈধ মজুতের উপর জরিমানা চাপিয়ে সরকার আয় করেছিল প্রায় ১০.২৭ কোটি টাকা। সে জায়গায় এ বছর শুধুমাত্র জুন মাসেই বালির অবৈধ মজুত থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় প্রায় ৭ কোটি টাকা। বৈধ মজুত এবং বাকি গতিবিধি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের হানাও চলছে নিয়মিত। আধিকারিকদের একাংশের মতে, অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেলে জরিমানার খাতে আদায়ের পরিমাণ এখনকার তুলনায় নিশ্চই কমবে। কিন্তু গোটা কাজকর্ম বৈধ ভাবে হতে হলে তা সরকারের পরিধির মধ্যেই থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে রাজস্বের গতি তুলনায় বাড়তে পারে অনেকটা। বিগত সরকারের সময়ে বালির অবৈধ খনন-মজুত নিয়ে নানা সময়ে অভিযোগ প্রশাসনকে জানাতেন নাগরিকদের একাংশ। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। তবে সরকারের এখনকার নীতি অনুযায়ী, খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধি কার্যকর হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। তাতে যাঁরা সে কাজের লিজ় পাবেন, সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কর জমা করে তবে তাঁদের কাজ করতে হবে। আবার বিধির অতিরিক্ত কিছু প্রশাসনিক ছাঁকনিতে আটকালে তার থেকেও জরিমানা পেতে পারে নবান্ন।

বিগত দু’টি প্রশাসনিক বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছিলেন। বাজেটের পরেও সরকারের অবস্থান ছিল ‘রেভিনিউ লিকেজ’ আটকানো। অভিজ্ঞ কর্তাদের মতে, এমন সব ক’টি ক্ষেত্রে তা করা গেলে এবং খনিজ-গতিবিধি থাকা জেলাগুলির অগ্রগতি এক সূত্রে চললে, এই খাতেই বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় প্রতি বছর করতে পারে সরকার।

আরও পড়ুন