—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কংগ্রেস একা লড়ার অবস্থান নেওয়ায় ‘স্বস্তি’ এসেছে বামফ্রন্টে! তাঁদের ভাগে এ বার কিছু আসন বাড়বে বলে উজ্জীবিত বাম শরিক নেতৃত্ব। তবে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠক এবং আইএসএফের সঙ্গে বোঝাপড়ার প্রশ্নে বিবাদ বাধল বামফ্রন্টে।
কোনও আলোচনা ছাড়াই সেলিম কেন হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছিলেন, বামফ্রন্টের বৈঠকে বৃহস্পতিবার সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন শরিক নেতারা। আইএসএফ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ নিয়েও নানা মত জানান তাঁরা। সূত্রের খবর, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যের জবাবে সেলিম অতীতে প্রয়াত ফ ব নেতা অশোক ঘোষের ডাকা নেতাজি জয়ন্তী কমিটির বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থি্তির প্রসঙ্গ তোলেন। ক্ষুব্ধ ফ ব নেতারা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর অনুরোধে আবার এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যান নরেনেরা। সিপিআই, আরএসপি-র নেতৃত্বও বৈঠকে স্পষ্ট করে বলেছেন, সংখ্যালঘু ‘মন’ পেতে অতিরিক্ত তৎপরতা দেখাতে গিয়ে সংখ্যাগুরু ভাবাবেগ যাতে রুষ্ট না হয়, তা-ও খেয়াল রাখতে হবে।
উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পরে ঠিক হয়েছে, বাম শরিক, বামফ্রন্টের বাইরের বাম দল এবং আইএসএফ-কে সঙ্গে নিয়েই বিধানসভায় লড়াই হবে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে আসন ভাগের প্রস্তুতি সেরে ফেলা হবে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক রয়েছে ১৯-২০ তারিখ। কংগ্রেস একা চলতে চাওয়ায় যে পরিস্থিতি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘কংগ্রেস কী সিদ্ধান্ত নিল, তা তাদের দলীয় বিষয়। এতে বাম শিবিরের নিচু তলায় কেউ কেউ স্বস্তি পাবেন কি না, জানি না। তবে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে কংগ্রেস কেন আগের জায়গায় থাকতে পারল না, তাদেরও ভেবে দেখা উচিত।’’ আর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রতি রাজ্য সম্পাদক সেলিমের পরামর্শ, কোথায় কে কী বলল, না-ভেবে বুথের লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে হবে।