—প্রতীকী ছবি।
কালবৈশাখীর দাপটে রাজ্যে আগেভাগেই শুরু হয়েছে বৃষ্টির পর্ব। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের আগাম পূর্বাভাস পেয়েই সতর্ক হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বিশেষ করে ডেঙ্গি ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এখন থেকেই একাধিক নির্দেশ জারি করেছে নবান্ন। এই প্রেক্ষিতে রাজ্য পূর্ত দফতর তাদের অধীনস্থ সমস্ত দফতর ও ইউনিটকে কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকালে জমে থাকা জলই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের মূল প্রজননক্ষেত্র হয়ে ওঠে। তাই আগাম প্রতিরোধই এখন প্রধান লক্ষ্য। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পূর্ত দফতরের আওতাধীন জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তির কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভাব্য জল জমার স্থানগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খোলা গর্ত বা নিচু জমি যেখানে জল জমতে পারে, সেগুলি অবিলম্বে ভরাট করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত নয় এমন যন্ত্রাংশ, বিটুমেন ভ্যাট বা নির্মাণ সামগ্রীতে জল জমে থাকার সম্ভাবনা এড়াতে সেগুলি ঢেকে রাখা বা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভাঙা নির্মাণসামগ্রী বা পরিত্যক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র দ্রুত সরিয়ে ফেলতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও ব্রিজ ডেক, ভবনের ছাদ এবং অন্যান্য ড্রেনেজ পয়েন্ট নিয়মিত পরিষ্কার রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সরকারি ক্যাম্পাসগুলিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে, যাতে কোথাও জল জমে না থাকে। চিলার প্ল্যান্টের কুলিং টাওয়ার এবং এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝোপঝাড় ও অপ্রয়োজনীয় গাছপালা পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে সপ্তাহে একবার লার্ভিসাইড স্প্রে করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কাজে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বর্ষার আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নিতে প্রশাসনের এই তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।