TMC Party Fund Controversy

মমতার তৃণমূলের তহবিলের লেনদেন বন্ধ করতে তৎপর ঋতব্রতের তৃণমূল! অভিযোগ পুলিশেও

তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনে যে অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে তাদের তহবিলে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ৬৭৫ কোটি। দলের অন্দরে বিভাজন স্পষ্ট হওয়ার পর এই তহবিলের দখল নিয়েও জল্পনা বেড়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২৩:০৪
(বাঁ দিকে) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

আরও বিপাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। দলের তহবিলের লেনদেন বন্ধ করতে এ বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। বৃহস্পতিবার তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙ্কে তৃণমূলের তহবিল থেকে যাতে আর্থিক লেনদেন না হয়, তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

Advertisement

ঋতব্রত শিবির সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় যে যে ব্যাঙ্কের শাখায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তা উল্লেখ করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক বিধায়ক। পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে রাখা হয়েছে, কোন এলাকায় কোন ব্যাঙ্কে তৃণমূলের কী কী অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলি আপাতত ‘ফ্রিজ়’ করা হোক, চান ঋতব্রতেরা। দলে টানাপড়েনের কারণ দেখিয়ে ওই সব অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধের আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের কাছে চিঠিতে নিজেদের আসল তৃণমূল বলেও দাবি করেছেন ঋতব্রতপন্থী এই বিধায়কেরা।

ইতিমধ্যে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কিছু দিন আগে পর্যন্ত তিনিই দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। গত ৫ জুন সাংগঠনিক রদবদলে অরূপ সেই পদ হারান। তাঁর জায়গায় দলের কোষাধ্যক্ষ করা হয় প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে। তবে ব্যাঙ্ককে দেওয়া চিঠিতে অরূপ নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবেই উল্লেখ করেন। জানান, দলের ২০ জন সাংসদ এবং ৫৮ জন বিধায়ক হয় দল ছেড়েছেন, না হয় প্রকাশ্যেই দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই অবস্থায় দল এবং দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কারণ হাতে থাকবে তা নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। সমস্যা না-মেটা পর্যন্ত দলের তহবিল ‘সুরক্ষিত রাখতে’ এবং ‘অনুমোদনহীন কোনও ব্যক্তি কর্তৃক’ টাকা তোলা বা আদানপ্রদান আটকাতে অ্যাকাউন্টে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার এবং সব রকম লেনদেন বন্ধ রাখা দরকার। ১২ জুন অরূপ এই চিঠি দিয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেন ১৬ জুন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনে যে অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে তাদের তহবিলে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ৬৭৫ কোটি। অরূপের দাবি, কোষাধ্যক্ষ হিসাবে বেশ কিছু চেকে তিনি সই করে রেখেছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সমস্ত চেকের অপব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তাই ব্যাঙ্ক থেকে লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন।

অরূপের এই চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই বৃহস্পতিবার আসরে নামে ঋতব্রত শিবির। বিধানসভায় তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরেছে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মনোনয়নের বিরোধিতা করে তিনি ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁকেই বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন স্পিকার। এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরে মমতাপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী হিসাবে দু’টি বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া, দিল্লিতে সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অন্তত ২৮ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ত্রিপুরার অখ্যাত দল এনসিপিআই-তে। এই পরিস্থিতিতে দলের মূল তহবিলের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে মরিয়া সব পক্ষই।

Advertisement
আরও পড়ুন