—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সরকার বদলের হাত ধরে স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে পড়াশোনা সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তনও এ বার আসন্ন বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের ডিএ-র বঞ্চনা আর পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিন ভাতা না বাড়ার ক্ষোভও ভোটযন্ত্রে ছাপ ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠছে।
অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইতে ছবি-সহ সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিবৃত্ত নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সারা বছরের ৬৫ দিনের ছুটির তালিকাও বদলাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত। সেই সঙ্গে শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, পড়ুয়াদের যে খাতা দেওয়া হত তাতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বিজ্ঞাপন থাকত। ওই বিজ্ঞাপনের পাতার মানই শুধু ভাল ছিল। লেখার পাতার মান ছিল খুব খারাপ। এ বার পড়ুয়াদের খাতার মানও ভাল হওয়া দরকার। ‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, “পাঠ্যক্রম ও পড়াশোনার পরিকাঠামোয় নতুন সরকার কিছু বদল আনলে স্বাগত।”
ডিএর দাবিতে যে লাগাতার আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনকে তৃণমূল সরকার গুরুত্ব দেয়নি বলেও শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ও শিক্ষক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “শহিদ মিনার চত্বরে আমাদের আন্দোলন চলছে ১১৯৭ দিন ধরে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের থেকে রাজ্যের শিক্ষকদের ডিএর পার্থক্য ৪২ শতাংশ। আশা করছি, এই বঞ্চনা এই সরকার দূর করবে।”
যদিও বাস্তবে ত্রিপুরার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র হারে পার্থক্যই বহাল রয়েছে। ভাস্করের আরও অভিযোগ, স্কুলের কম্পোজ়িট গ্রান্ট নিয়মিত পাওয়া যায় না। সে কারণে চক, ডাস্টার, স্কুলের শিক্ষকদের হাজিরা খাতা কেনা নিয়েও টানাটানি হচ্ছে।
পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সভাপতি ভগীরথ ঘোষ বলেন, “প্রাথমিকের পার্শ্বশিক্ষকদের ভাতা ১০ হাজার এবং উচ্চ প্রাথমিকের ভাতা ১৩ হাজার টাকা। এই ভাতা ২০১৮ সাল থেকে বাড়েনি। মাস কয়েক আগে এই সরকার ১০০০ টাকা ভাতা বাড়ালেও সেই বর্ধিত ভাতা এখনও পাইনি। আমাদের প্রধান দাবি বেতন কাঠামো ঠিক করতে হবে। পার্শ্বশিক্ষকদের এই ক্ষোভের প্রতিফলন ভোটযন্ত্রে ঘটেছে।”