শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে হত্যা করা হয়েছে মধ্যমগ্রামে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাইকটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বারাসতে ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই বাইক। চন্দ্রনাথের খুনের সঙ্গে এই বাইকের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, চন্দ্রনাথকে খুনের পর বাইকে করে রেলগেটের কাছে যায় দুষ্কৃতীরা। সেখানেই বাইক ফেলে অন্যত্র পালিয়ে যায়। এই সংক্রান্ত সূত্র খুঁজতে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রতিনিধিরা ভিন্রাজ্যে গিয়েছেন বলে খবর। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে বৃহস্পতিবারই রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করেছিল। তাতে রাখা হয়েছে এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও। খুনে ব্যবহৃত একটি বাইক বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম চত্বর থেকেই উদ্ধার করা হয়। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি ছিল, তা ভুয়ো। তা ছাড়া, বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বাইকের ক্ষেত্রেও ওই নম্বরের ঘষা রয়েছে বলে খবর। বাইকটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের আবাসনের সামনে খুন হন চন্দ্রনাথ। তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা পর পর গুলি চালায়। ঝাঁঝরা হয়ে যান শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক। তাঁর গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হন। আপাতত তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কেউ কেউ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। তবে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শান্ত, সংযত থাকার বার্তা দিয়েছে রাজ্য বিজেপি।
সূত্রের খবর, সুপারি কিলার নিয়োগ করা হয়েছিল চন্দ্রনাথকে খুনের জন্য। এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, মাস খানেক আগে কারও সঙ্গে চন্দ্রনাথের বচসা হয়েছিল কি না, এমন কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হয়। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে প্রথমে একটি চারচাকার গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছিল। তার পর দু’পাশ থেকে দু’টি বাইকে করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালাতে শুরু করে। খুনের পর বাইকে করেই তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফেলে রেখে যায় চারচাকার সেই গাড়িটি। সেটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। তার খোঁজ চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইকের পাশাপাশি গাড়িটিতেও ভুয়ো নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার উদ্দেশ্যেই ভুয়ো নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তের বিষয়ে পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে তেমন কোনও মন্তব্য করা হচ্ছে না। তবে ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তা-ও দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের পরিভাষায় এই ধরনের তদন্তকে ‘কল ডাম্প’ বা ‘টাওয়ার ডাম্প’ বলা হয়। এই ব্যবস্থায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকার টাওয়ারে কোথা থেকে কার ফোন গিয়েছিল, তা ফোন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে জানতে চাইতে পারে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের কাছে ভিন্রাজ্য থেকে ফোন এসেছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের।