জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
রাজ্যের কলেজগুলিতে এখনই ছাত্র ইউনিয়নের ভোটাভুটি করানোর পরিকল্পনা নেই রাজ্য সরকারের। সূত্রের খবর, সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আগে কলেজে শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ছন্দে ফিরুক। কলেজ রাজনৈতিক রেষারেষি মুক্ত হোক। তারপরে বছরখানেক বাদে ইউনিয়ন ভোট করানোর কথা ভাবা হবে। তৃণমূল আমলে কলেজে কলেজে শাসক দলের অনুগামী সংগঠনের ‘ছাত্রতন্ত্র’ই অরাজকতার মূল কারণ বলে চিহ্নিত করেছে তখনকার বিরোধী-শিবির। আবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে কলেজে কলেজেও হঠাৎ দল বদলে নব্য এবিভিপি-র নামে দৌরাত্ম্যের নানা অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে সতর্ক বিজেপি-শিবির ও নতুন রাজ্য সরকার। অনেক কলেজেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র শাখা এবিভিপি-র পতাকাও শোভা পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এখনই ভোটাভুটি না করিয়ে কলেজে কলেজে নতুন শিক্ষাবর্ষ চালু করা এবং সুস্থিতি বজায় রাখায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য।
পাশাপাশি, রাজ্য জুড়ে সদ্য কলেজে ভর্তি হওয়া নবাগতদের উপরে প্রাক্তনী ‘দাদা’দের যে কোনও রকম জুলুম সামলাতে কড়া বার্তা দিচ্ছে রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতর। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশ, কলেজের ইউনিয়ন রুম বা কোনও কক্ষ ব্যবহার করে শিকড় গজিয়ে যাওয়া স্বঘোষিত ছাত্রনেতা বা প্রাক্তনীরা কেউ যেন ভর্তি পর্বে নাক গলাতে না পারেন। প্রসঙ্গত কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অভিন্ন কেন্দ্রীয় পোর্টাল মারফত পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলেও আগামী শনিবার (২৭ জুন) থেকে কলেজে কলেজে সশরীরে যাচাই পর্ব শুরু হবে। এই পর্বেই আনকোরা পড়ুয়াদের উপরে যে কোনও রকম চাপ সৃষ্টি ঠেকাতে ‘শূন্য সহনশীলতা’র বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
মন্ত্রীর কথায়, ‘‘নবীন শিক্ষার্থীদের যেন কলেজে এতটুকু চাপে না পড়তে হয়, সেটা আগে দেখতে হবে। ইউনিয়ন রুমে এখন কোনও ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতিই কাম্য নয়।’’
তৃণমূল আমলে ভর্তির সময়ে কলেজে কলেজে নবাগতদের থেকে টাকা তোলার অভিযোগ বার বার উঠেছে। প্রায় এক দশক ছাত্র ইউনিয়নের ভোট হয়নি বহু কলেজে। ইউনিয়ন রুম দখল করে কলেজে প্রাক্তন হয়ে যাওয়া শাসক দলের ছাত্রনেতারা নানা রকম মাতব্বরি বা অনভিপ্রেত কারবার চালাচ্ছে এটাই পশ্চিমবঙ্গের কলেজের ‘সংস্কৃতি’ বলে অভিযোগ উঠেছিল। ছাত্র ইউনিয়ন ভোট হওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন রুম খোলা যাবে না বলে গত বছরই নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। কিন্তু তার পরেও সর্বত্র সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বার রাজ্য সরকার ভর্তি পর্বের পুরোটাই কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালিত ব্যবস্থার মধ্যে রাখছে। পরবর্তী পর্যায়েও কলেজগুলিকে জড়াতে চাইছে না। এই অবস্থায় নবাগতদের কলেজে ঢোকার সময়ে ইউনিয়ন রুম মারফত প্রভাব বিস্তার নিয়ন্ত্রণে তৎপর উচ্চশিক্ষা দফতর। বিকাশ ভবনের এক কর্তা বলেন, ‘নির্দেশ এসেছে, ইউনিয়ন রুম খুলে কোনও ছাত্র সংগঠনের নামে প্রভাব বিস্তার করা চলবে না। সব কলেজের অধ্যক্ষদের বলা হচ্ছে, কোনও প্রাক্তনী নেতাদের মাতব্বরি নজরে এলে দরকারে এফআইআর করুন।’ সম্প্রতি সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ‘শয়নকক্ষ’ আবিষ্কার বা ইউনিয়ন রুমে টাকা, অস্ত্র উদ্ধারে কলেজের তহবিল অডিটের নির্দেশ দেয় উচ্চ শিক্ষা দফতর। এ বার স্নাতকে ভর্তির প্রথম রাউন্ড শেষে ৩ লক্ষ ১২ হাজার মতো পডুয়া অনলাইনে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত বারের থেকে ভর্তিবেশি হওয়ার সম্ভাবনা।