Ghoramara

বিপন্ন ঘোড়ামারা দ্বীপ, রিপোর্ট চায় আদালত

ভূমিক্ষয় সুন্দরবনের অন্যতম বড় সমস্যা। মূলত পরিবেশগত কারণ, জলবায়ুর পরিবর্তন, সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি নদীতে বাঁধ দেওয়া, পলি জমার হার কমে আসার কারণে ক্রমশ জমি হারাচ্ছে সুন্দরবনের ব-দ্বীপ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৭
ঘোড়ামারা দ্বীপ।

ঘোড়ামারা দ্বীপ। — ফাইল চিত্র।

ক্রমশজমি হারাচ্ছে সুন্দরবনের ঘোড়ামারা দ্বীপ। যে হারে ভূমিক্ষয় হচ্ছে তাতে ২০৪২ সালের মধ্যে দ্বীপের প্রায় ৪০ শতাংশ জমি হারিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তাই মঙ্গলবার জাতীয় পরিবেশ আদালত কেন্দ্র ও রাজ্যের আমলাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে ওই দ্বীপকে বাঁচানোর প্রশ্নে সার্বিক রিপোর্ট তিন মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ভূমিক্ষয় সুন্দরবনের অন্যতম বড় সমস্যা। মূলত পরিবেশগত কারণ, জলবায়ুর পরিবর্তন, সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি নদীতে বাঁধ দেওয়া, পলি জমার হার কমে আসার কারণে ক্রমশ জমি হারাচ্ছে সুন্দরবনের ব-দ্বীপ। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৯-২০১৯ সালের মধ্যে সুন্দরবন সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ বর্গ কিলোমিটার জমি হারিয়েছে। শুধু ঘোড়ামারা দ্বীপের আয়তন ছিল ৮.৭৫৯ বর্গ কিলোমিটার। যা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৩ বর্গ কিলোমিটারে।

গত মঙ্গলবার বিষয়টি জাতীয় আদালতে শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি আফরোজ আহমেদ অবিলম্বে ওই ভূমিক্ষয় রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, রাজ্য সরকার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতির কাজে হাত দিলেও, ম্যানগ্রোভ বনের রক্ষার প্রশ্নে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা নেয়নি রাজ্য-কেন্দ্র উভয়েই। সে কারণে বিচারপতিরা ঘোড়ামারা তথা সুন্দরবনকে ভূমি ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই কমিটিতে থাকবেন রাজ্য সরকারের পরিবেশমন্ত্রকের ডিজি (বন), রাজ্য সরকারের প্রধান মুখ্য বনপাল অধিকর্তা। ম্যানগ্রোভ রক্ষায় একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা, উপকূল এলাকার ভূমিক্ষয় রোধ করতে গেলে কেমন খরচ হবে, অর্থ কোথা থেকে আসবে, ভূমিক্ষয় রোধের প্রশ্নে নিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়াও প্রকল্প কত দিনে শেষ হবে, কমিটির কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে ফের ওই মামলার শুনানি হতে চলেছে। তার আগে ওই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতের সামনে জমা দিতে নির্দেশদেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন