মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রধান বিচারপতির এজলাসে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি লোক ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর মামলার জন্যই এত লোক ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি লোক অংশ নিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির এজলাস বসল। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির এজলাস বসার পরে পূর্ব নির্ধারিত কয়েকটি মামলার শুনানি হবে। তার পরেই নেওয়া হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর মামলা।
প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত হলেন আইনজীবীরা। কিছু ক্ষণ পরেই পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি শুরু হবে এই এজলাসে।
সুপ্রিম কোর্টে ঢুকলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অন্য আইনজীবীরা। তাঁর করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় মমতা নিজেই সওয়াল করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত তাঁর পরনে আইনজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক কালো গাউন বা শামলা নেই। তবে গলায় রয়েছে একটি কালো চাদর। এক নম্বর এজলাসে যাচ্ছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, শুনানির পরে যাচাইপ্রক্রিয়ার সময় রাজ্যের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা জারি করা সমস্ত নথি গ্রহণ করতে কমিশনকে নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে মমতার আর্জি, যে সব ক্ষেত্রে অন্য রাজ্যের নথি যাচাইয়ে পাঁচ দিনের বেশি সময় লাগছে, সে সব ক্ষেত্রে স্থানীয় ইআরও-কে নিষ্পত্তির অনুমতি দিক কমিশন।
সুপ্রিম কোর্টে মমতার আবেদন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব মাইক্রো অবজ়ারভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হোক। এর পাশাপাশি তাঁর আর্জি, মাইক্রো অবজ়ারভাররা যেন কোনও আইনি ক্ষমতা ব্যবহার না-করেন। যেমন—শুনানিতে অংশগ্রহণ বা যাচাই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ।
যে সব ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করার আর্জি জানিয়েছেন মমতা। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাঁর আবেদন, ভবিষ্যতে গণহারে ফর্ম-৭ জমা দেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হোক। যাঁরা ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছেন, তাঁদেরকে শুনানির সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন মমতা।
দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাংলো থেকে বেরিয়ে সুুপ্রিম কোর্টে পৌঁছোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তথ্যগত অসঙ্গতির ক্ষেত্রে অন্য নথির উপর জোর না-দিয়ে আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ করার আবেদনও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি হিসাবে চিহ্নিত কোনও ভোটারের নাম যেন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাতিল করা না-হয়। বিশেষত যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপড এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন।
নাম বা নামের বানানে অমিল নিয়ে যে সব তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) রয়েছে, সেগুলির জন্য শুনানিতে না-ডেকে উপযুক্ত নথির ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে সংশোধন করার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, নাম বা নামের বানানে অমিল সংক্রান্ত তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য শুনানির নোটিস প্রত্যাহার করা হোক। এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারদের তা জানাতে কমিশনকে নির্দেশ দিক আদালত।
নিজের মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ১৮তম বিধানসভা নির্বাচন হোক।
তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মামলা শুনানির তালিকায় প্রথমের দিকে রয়েছে। ১ নম্বর কোর্টের শুনানির তালিকায় ২১ নম্বরে রয়েছে ওই মামলা দু'টি। সুপ্রিম কোর্টের শুনানির অতিরিক্ত তালিকায় রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা। অতিরিক্ত তালিকার ৩৬ নম্বরে রয়েছে কবি জয় গোস্বামীর মামলা। মমতার মামলা রয়েছে ৩৭ নম্বরে।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে বেলা ১১টা নাগাদ শুনানির জন্য উঠবে।
নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট এক নম্বর এজলাসেই হবে শুনানি।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইন সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন পোর্টাল ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নামে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের তরফে একটি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বুধবারের শুনানিতে তাঁর উপস্থিতি একপ্রকার নিশ্চিত। আইনজীবী হিসাবে সওয়ালও করতে পারেন তিনি। তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েও সেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।