Suvendu Adhikari and Mamata Banerjee

পরিচয় পরিবর্তন! সমাজমাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ জুড়ে নিলেন শুভেন্দু, অবশেষে বদল করলেন মমতাও, তবে ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ না লিখে

গত ৪ মে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেও প্রথা মেনে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। শনিবার সকাল পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে বদলাননি ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়ও!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১৪:০৯
TMC chief Mamata Banerjee changed her ‘Chief Minister identity’ from social media

(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী এবং বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অবশেষে সমাজমাধ্যমে তাঁর পরিচয় পরিমার্জন করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে, শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার দিনেই। অন্য দিকে, সমাজমাধ্যমে শনিবার নিজের পরিচয় বদলেছেন শুভেন্দুও। নামের সঙ্গে জুড়েছেন ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়।

Advertisement

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ বা এক্স হ্যান্ডলে নিজের নামের পাশে এতদিন ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ লেখেননি মমতা। শুধু উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ। সমাজমাধ্যমে মমতার নতুন পরিচয়— ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (পঞ্চদশ, ষোড়শ এবং সপ্তদশ বিধানসভা)’।

অন্য দিকে, শনিবার শপথ নেওয়ার পরে শুভেন্দু সমাজমাধ্যম-পরিচয় হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী’। গত ৪ মে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেও প্রথা মেনে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত তাঁর সরকারের মেয়াদ ছিল। সেই রাতে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল আরএন রবি। অর্থাৎ, বিধানসভার অস্তিত্বও আর নেই। কিন্তু সমাজমাধ্যমে তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেননি। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে নিজেকে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ বলে পরিচিত করছেন তিনি। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ বা এক্স হ্যান্ডল খুললেই সেই পরিচয় দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই তা বদলে গেল।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে ২৯৪ (ভোট হয়েছে ২৯৩ আসনে) আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন বিজেপি জিতে নিয়েছে। শাসকদল তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে জনগণের রায় মেনে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়াই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর করণীয় ছিল। কিন্তু মমতা সে পথে হাঁটেননি। প্রথম থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুটের দাবি করে এসেছেন তিনি। অভিযোগ, ১০০টিরও বেশি কেন্দ্রে ভোট লুট করে নেওয়া হয়েছে। তাই বিজেপির এই জয়কে মান্যতা দিতে তিনি নারাজ। আগামী দিনে আইনের পথে হাঁটবেন বলেও জানিয়ে রেখেছেন মমতা। ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না-দেওয়ায় অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। শেষপর্যন্ত ৭ মে বিধানসভার বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সাংবিধানিক বিধি মেনেই তিনি ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ হয়ে গিয়েছিলেন মমতা। এ বার সমাজমাধ্যমে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি পরিহার করেই পরিচয় বদল করলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন