—প্রতীকী চিত্র।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিস থেকে হাতে সুপারিশপত্র নিয়ে বেরোচ্ছেন এক চাকরিপ্রার্থী। চোখের কোণে চিকচিক করছে জল। সেই জল মুছে কৃষ্ণমৃত্তিকা রায় নামে ওই চাকরিপ্রার্থী বললেন, ‘‘এই জল আনন্দের!’’ তিনি জানান, ২০১৬ সালে মিউজ়িক বিষয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এ বার প্রথম হয়েছেন। বললেন, ‘‘কোনও অপরাধ না করেই চাকরি চলে গিয়েছিল। আমাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আমি অগ্নি পরীক্ষায় সসম্মানে উতরে ফের সুপারিশপত্র নিয়ে যাচ্ছি।’’
মঙ্গলবার থেকে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের সুপারিশপত্র দেওয়া শুরু করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। আজ, বুধবারও সুপারিশপত্র দেওয়া হবে। এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, ‘‘এ দিন ৬৫ জনের মতো চাকরিপ্রার্থী সুপারিশপত্র নিয়েছেন। বুধবার প্রায় ১০০ জনকে সুপারিশপত্র দেওয়া হবে।’’ এ দিন সকাল দশটা থেকেই সল্টলেকে এসএসসি-র অফিসের (আচার্য সদন) সামনে ভিড় জমছিল। অনেক প্রার্থীর সঙ্গে আত্মীয়েরাও এসেছিলেন।
চাকরিহারাদের অনেকেই বলছেন, এ বারের পরীক্ষা অনেক কঠিন ছিল। একদিকে যেমন সাংসারিক চাপ, অন্য দিকে রুটি-রুজি-সম্মান বাঁচানোর লড়াই। তেমনই এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘‘২০১৬ সালে যখন এসএসসি দিয়েছিলাম তখন বিয়ে হয়নি। এ বার সন্তান-সংসার-চাকরি সামলে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। প্রস্তুতির পাশাপাশি রাস্তায় নেমে আন্দোলনও করেছিল। পথটা মোটেও সহজ ছিল না।’’ চাকরিহারাদের মধ্যে অনেকে আবার দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসে বাড়ির কাছে নিয়োগ পেয়েছেন। যেমন হুগলির হরিপালের পারমিতা দাস। তবে দ্বিতীয় বার চাকরি পেয়েও কৃষ্ণমৃত্তিকার মতো চাকরিহারাদের অনেকের প্রশ্ন, ‘‘চাকরির ধারাবাহিকতা পাব তো?’’
নতুন চাকরিপ্রার্থীদের অনেকের অভিযোগ ছিল, চাকরিহারাদের অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর দেওয়ায় তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু প্রথমবার পরীক্ষায় বসে চাকরি পাওয়া প্রার্থীরা সেই যুক্তি মানতে নারাজ। রাজারহাটের বাসিন্দা চাকরিপ্রার্থী নাদিরা কালাম যেমন এ বছরই প্রথম এসএসসি-র পরীক্ষায় বসেছিলেন। নৃতত্ত্বের হবু শিক্ষিকা নাদিরা বলেন, ‘‘উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার কামিনীকুমার গার্লস স্কুলে শিক্ষকতার সুপারিশপত্র পেয়েছি। প্রস্তুতি ঠিক ছিল বলে বঞ্চিতহতে হয়নি।’’