Abhishek Banerjee

হুগলি এবং নদিয়ায় দুই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু, মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, মোদী-শাহ চুপ কেন, প্রশ্ন তুললেন অভিষেক

তৃণমূলের অভিযোগ, হুগলির সপ্তগ্রাম বিধানসভা এবং নদিয়ার চাকদহ বিধানসভায় দুই কর্মীর উপর চড়াও হয় বিজেপিআশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম হয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৩:১৬
দুই কর্মীর মৃত্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুই কর্মীর মৃত্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যে দুই কর্মীর মৃত্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলল তৃণমূল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে ওই দুই কর্মীর নাম, ঠিকানা দিয়ে হামলার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে।

Advertisement

তৃণমূলের অভিযোগ, হুগলির সপ্তগ্রাম বিধানসভার পোলবা-দাদপুর ব্লকে তাঁদের এক কর্মীর উপর চড়াও হয় বিজেপিআশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম হয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই তৃণমূলকর্মীর নাম সোমনাথ আচার্য। অন্য দিকে, নদিয়ার চাকদহ বিধানসভার চাকদহ ব্লকে তপন শিকদার নামে এক তৃণমূলকর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁকেও আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর।

দুই কর্মীর মৃত্যুর জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রশাসন নীরব। দুই কর্মীর পরিবার একটাই প্রশ্ন করছেন, তৃণমূলকে সমর্থন করাই কি অপরাধ ছিল তাদের?’’ তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার পরেও পুলিশ নিষ্ক্রিয়। আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। বিজেপি নেতারা জয় উদ্‌যাপনে ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী বিদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই ঘটনায় চুপ। আশ্চর্যজনক ভাবে সকলে নীরব। আর বিজেপির হিংসার রাজনীতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনও অভিযোগ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক।

বিজেপি হুগলি সংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, ‘‘বিজেপির লোকজন মারতে যাবে কেন? বিজেপির লোকজন ও সব করে না। বিজেপির যদি লোক এ সব করে থাকে প্রমাণ করুক। বিজেপি হিংসার রাজনীতি করে না।’’ তাঁর আরও দাবি, এটা কোনও ভোট-পরবর্তী হিংসা নয়। বিজেপি এ ধরনের কাজ করে না।

অন্য দিকে, চাকদহের বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ বলেন, ‘‘কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখনও ঘটেনি। ব্যক্তিগত কোনও কারণে কোনও কিছু হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করবে।’’

গত বুধবার পোলবা পোলবায় বাড়ির কাছেই আক্রান্ত হন দুই যুবক। এক জনের মৃত্যু হয় আরজি কর হাসপাতালে। অন্য জন চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর,পোলবার মহানাদ গ্রামে গতকাল দুপুরে বাড়ির সামনেই দুই যুবক সোমনাথ ভট্টাচার্য ও শ্রীকান্ত মালিককে মারধর করে উন্মত্ত কয়েক জন। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ জানান ,মহানাদের ঘটনা ভোট-পরবর্তী হিংসার নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে। ওরা একসঙ্গে বসে মদ খাচ্ছিল নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঘটনায়।

গত মঙ্গলবার চাকদহের সিলিন্দা বাজারে তৃণমূল কর্মী তপন শিকদারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তপনকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানেই তিনি মারা যান। যদিও তপনের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হয়। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব বার বারই দলের কর্মী-সমর্থকদের বার বার বার্তা দিয়েছেন, কোথাও যেন কোনও রকম অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেন। বিরোধী দলের কারও গায়ে যেন হাত না ওঠে। কারও উপর আক্রমণ না হয়। এই বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকেও সেই মতো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন