—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
এসআইআর-এ ভোটারেরা বাদ যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে— সুপ্রিম কোর্টে আজ এই অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের দাবি, রাজ্যের ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে হারজিতের ব্যবধান ভোট দিতে না পারা ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের তুলনায় কম। যাঁদের ভাগ্যের এখনও আপিল ট্রাইবুনালে ফয়সালা হয়নি।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলকে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করতে বলেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের বক্তব্য, তৃণমূল মামলা দায়ের করলে তার পরে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আপত্তি শোনা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, যদি কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে হারজিতের ব্যবধান এসআইআর-এর ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর ফলে ভোট দিতে না পারা ভোটারদের থেকে বেশি হয়, তা হলে কী হবে? বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, রাজ্যের ৪৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধানের থেকে ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর বাদ ভোটারদের সংখ্যা বেশি। এসআইআর-এ ৯০ লক্ষের বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। এর মধ্যে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’-র তালিকায় থাকা ২৭ লক্ষ মানুষ ‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বাদ যান। যাঁরা আপিল ট্রাইবুনালে গেলেও তাঁদের খুব সামান্য অংশেরই ভোটের আগে ফয়সালা হয়েছে। ফলে অনেক খাঁটি ভোটারই ভোট দিতে পারেননি। গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ঠিক এই প্রশ্নই তুলে বলেছিলেন, ‘‘যদি কোথাও জয়ের ব্যবধান ২ শতাংশ হয়, ১৫ শতাংশ ম্যাপড ভোটার ভোট না দিতে পেরে থাকেন, তা হলে কী হবে? নিশ্চিত ভাবেই বিবেচনা করতে হবে।’’
সোমবার এসআইআর মামলায় তৃণমূলের হয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে হারের ব্যবধান ভোটার তালিকা বাদ মানুষের সংখ্যার থেকে কম। একটি কেন্দ্রে হারজিতের ব্যবধান মাত্র ৮৬২। কিন্তু সেখানকার ৫,৪৩২ জন ভোটার ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর আওতায় রয়েছেন। রাজ্যে মোট ভোটের নিরিখে হারজিতের ব্যবধান ৩২ লক্ষ। কিন্তু প্রায় ৩৫ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে সিদ্ধান্তের ফয়সালা হয়নি। এ বিষয়ে ভোটের আগে বিচারপতি বাগচী যে মন্তব্য করেছিলেন, তারও উল্লেখ করেন কল্যাণ। বলেন, সে সময় বিচারপতি বাগচী বলেছিলেন, এমন পরিস্থিতি হলে তা আদালত দেখবে।
বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘যা বলতে চান, অ্যাজুডিকেশনের আওতায় থাকা ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ায় নির্বাচনের ফলে তার প্রভাব পড়ছে বলে যা বলতে চান, তার জন্য একটি পৃথক অন্তর্বর্তী মামলা দায়ের করতে হবে।’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, অ্যাজুডিকেশন-এর ক্ষেত্রে যাতে ফয়সালার ব্যবস্থার উন্নতি হয়, তার চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট করতে পারে। যাতে সময়ের মধ্যে ফয়সালা হয়। যাঁদের ক্ষোভ রয়েছে, তাঁরা আইনানুগ যে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন। কল্যাণ বলেন, আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টি এস শিবগণনম ইস্তফা দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট কী করতে পারে? কাউকে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তৃণমূলের আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, আপিল ট্রাইবুনালে ফয়সালা হতে চার বছর সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কল্যাণ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর ভোট হয়। এ বছর বিধানসভা নির্বাচনর পরে আগামী বছর পুর নির্বাচন, তার পরের বছর পঞ্চায়েত, তার পরে লোকসভা নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু বলেন, যদি কারও নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকে, তা হলে তাঁকে নির্বাচন পিটিশন দায়ের করতে হবে। যদি এসআইআর নিয়ে খামতি থাকে, তা হলে সুপ্রিম কোর্টকে জানালে কমিশন তার জবাব দেবে।
কল্যাণ দাবি তোলেন, এসআইআর-এর ফলে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার জন্য ভোটের ফলে প্রভাব পড়েছে— এই মর্মে নির্বাচন পিটিশন দায়ের করা যাবে বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিক। তাতে অবশ্য প্রধান বিচারপতি রাজি হননি। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘আপনারা যথাযথ অন্তর্বর্তী মামলা দায়ের করতে পারেন। কমিশন সেই মামলা ধোপে টেকে কি না, বা অভিযোগের তথ্যগত সত্যতা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাবে। আমরা তা খতিয়ে দেখব। যথাযথ নির্দেশ জারি করব।’’
আপিল ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পরিস্থিতি ও সময়সীমা নিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে।