TMC leader JyotiPriya Mallick

ঋতব্রতের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা, ‘আমি তৃণমূলেই আছি’, স্পষ্ট বার্তা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের

কোন তৃণমূলের ছাতার তলায় ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন, সেই প্রশ্নের জবাবেও জ্যোতিপ্রিয় স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘‘দিদির সঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই সবাইকে থাকতে হবে। যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁদেরও ফিরে আসা উচিত। যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবেন, তাঁদের সবাইকে আমরা গ্রহণ করব। এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বিকল্প নেই।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৮:১৬
TMC leader JyotiPriya Mallick met leader of the opposition with Ritabrata Banerjee

বালু-ঋতব্রত সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কয়েক দিন আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই আবহেই মঙ্গলবার বিধানসভায় ‘তৃণমূল’ নেতা তথা রাজ্যের স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোচ্ছেন তিনি?

Advertisement

তবে সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় নিজেই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার দলবদলের কোনও প্রশ্নই নেই। একদম ভুল তথ্য। আজকে আমার যাঁরা পুরনো বন্ধু ছিল, তাঁদের সঙ্গে দেখা হল। অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেব— সবার সঙ্গে দেখা হয়েছে।’’ সাক্ষাতের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রাক্তন মন্ত্রী জানান, তিনি মূলত নিজের পেনশন সংক্রান্ত কিছু কাজ সারতেই বিধানসভায় গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি আমার পেনশনের কাগজ তুলতে এসেছিলাম। পেনশনের কাগজ নিলাম, কার্ড নিলাম। আমার কিছু মেডিক্যাল বিল বাকি রয়েছে, সেগুলোও জমা করেছি। মাঝখানে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হবে, তাই এই কাজগুলো সেরে নিলাম।’’

দলত্যাগ বা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ভুল তথ্য যদি কেউ ছড়ায়, তাহলে আমার কিছু করার নেই। আমি তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছি।’’ নতুন ‘তৃণমূলের’ উত্থান এবং দলীয় বিভাজন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক। তিনি মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কেটে যাবে এবং সবাই আবার এক ছাতার তলায় ফিরে আসবেন। তাঁর কথায়, ‘‘সবাই নিজের ভুল বুঝতে পারবে। তৃণমূল কংগ্রেস এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবে। কেউ হয়তো হঠকারিতায়, কেউ মাথাগরমে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ধাপে ধাপে সব ঠিক হয়ে যাবে। নির্বাচনের পর দলে একটা বিপর্যয় এসেছে, কিন্তু আমরা তা কাটিয়ে উঠব।’’

কোন তৃণমূলের ছাতার তলায় ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন, সেই প্রশ্নের জবাবেও জ্যোতিপ্রিয় স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘‘দিদির সঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই সবাইকে থাকতে হবে। যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁদেরও ফিরে আসা উচিত। যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবেন, তাঁদের সবাইকে আমরা গ্রহণ করব। এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বিকল্প নেই।’’

অন্য দিকে, জ্যোতিপ্রিয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকে স্বাভাবিক ঘটনা বলেই ব্যাখ্যা করেছেন ঋতব্রতও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বালুদা আমাদের পুরনো নেতা। দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। তিনি কোনও দিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন না।’’ তবে জ্যোতিপ্রিয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক জল্পনা যতই থাকুক, আপাতত তিনি নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলেরই অংশ হিসেবেই দেখছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন