—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পরাজয় মানতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যেই নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছেন তৃণমূলের বিজয়ী প্রার্থীরা। সোমবার সমাজমাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন দুই নবনির্বাচিত কুণাল ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিরোধী হিসেবে ‘সদর্থক ও গঠনমূলক’ ভূমিকা নেওয়ার কথা বলতেও দ্বিধা করেননি।
শপথ নেওয়ার আগে বেসুরো হচ্ছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের পরিচিত নেতারা সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন প্রকাশ্যে। তা সামাল দিতে বিরোধী আসনে বসার আগেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তৎপরতাও শুরু করতে হয়েছে দলীয় নেতৃত্বকে। কিন্তু শপথ নেওয়ার আগেই বিরোধী শিবিরে দলনেত্রীর অবস্থানের বিপরীত সুর বাজতে শুরু করেছে। বেলেঘাটা থেকে নির্বাচিত তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোমবার ফেসবুক’-এ লিখেছেন, ‘ভোটার তালিকা, ভোট মেশিন এবং গণনায় লুট নিয়ে তৃণমূলের নির্দিষ্ট বক্তব্য আছে। তবে যেহেতু নতুন সরকার, নতুন মুখ্যমন্ত্রী তাই শুভেচ্ছা থাকল।’
রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ শেষের পরে বিধানসভা ভোটে লড়তে নামেন ঋতব্রত। উলুবেড়িয়া (পূর্ব) কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের দিনই ঋতব্রত সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’ বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ায় সদ্যপ্রাক্তন মন্ত্রী তথা দলীয় সতীর্থ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেও ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদর্থক ও গঠনমূলক অধিবেশনগুলির অপেক্ষায়।’ সেই পোস্টের নীচে বর্ষীয়ান শোভনদেবও তরুণ ঋতব্রতকে জয়ের জন্য পাল্টা অভিনন্দন জানিয়েছেন। কুণালও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব, বিরোধী দলের মুখ্যসচেক ফিরহাদ হাকিম ও এক উপনেতা অসীমা পাত্রকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, উপনেতা পদে তৃণমূল অবশ্য অসীমার পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নির্বাচিত করেছে।
ফল প্রকাশের পরেই তৃণমূলের অন্দরে কেউ কেউ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তরুণ প্রজন্মের মুখপাত্র, পরিচিত অনেকেই মুখ খুলেছেন। এই অবস্থান নতুন বিধানসভা শুরুর আগেই নবনির্বাচিতদের মনোভাব নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলে।
জানা গিয়েছে, শপথ গ্রহণ হয়ে গেলে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মমতা ও অভিষেক। বিধানসভার ভিতরে তাঁরা কী করবেন, তা নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা।
সমাজমাধ্যমে এ দিনও পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারীর দু’টি হিংসার ঘটনা উল্লেখ করেছেন অভিষেক। খেজুরিতে ১০টি দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ কটাক্ষ করেছেন বিজেপিকে। বংশিহারীতে সিধো-কানহুর মূর্তি ভাঙার ভিডিয়ো প্রকাশ করেও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন। যদিও খেজুরির আগুন দুর্ঘটনা বলে প্রশাসনের দাবি।