গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
অহেতুক তদন্ত করতে পারে না শীর্ষ আদালত। নতুন করে প্রায় সাত লক্ষ ভোটারের নাম তোলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের দেওয়া এই তথ্য প্রসঙ্গে সোমবার এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। তৃণমূলের তরফে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী শীর্ষ আদালতে জানান, বিবিধ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফর্ম-৬ ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তে পাঁচ থেকে সাত লক্ষ ভোটারের নাম তোলা হয়েছে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ফর্ম-৬ জমা নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, সিইও দফতরে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম-৬ জমা দিয়েছে বিজেপি। ওই নিয়ে গত ৩০ মার্চ সিইও দফতরে অভিযোগ জানাতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফর্ম-৬ জমার বিষয়টি স্বীকারও করে নেয় কমিশন। তাদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী যে কোনও ভোটার একাধিক ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে কোনও ভুল নেই। সব আবেদন এবং নথি খতিয়ে দেখেই নাম তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অবস্থায় তৃণমূলের অভিযোগ জানানোর পরে আট দিনে কত নতুন নাম যোগ হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি কমিশন।
এখন আইনজীবী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ গুরুস্বামী শীর্ষ আদালতে দাবি করেন, নির্ধারিত সময়সীমার পরে ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন করা যায় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেটাই হয়েছে এবং এর ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আপনি চ্যালেঞ্জ করুন। আমরা দেখব।’’ কিন্তু আইনজীবী গুরুস্বামী তখন জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিশদ তথ্য নেই। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ বাকি। এখন বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন বিচার করে দেখছে ট্রাইবুনাল। তখন প্রধান বিচারপতি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো করে অহেতুক তদন্ত করতে পারে না শীর্ষ আদালত। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই বিষয়ে আর এগোব না।’’
কয়েক মাস ধরে চলা নাম তোলা এবং নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার পর দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার জন। অন্য দিকে, এসআইআর নিয়ে একাধিক মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। পূর্বে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর মামলায় প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য এবং কমিশন, দুই তরফই। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজ্য এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে! এই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশও করে শীর্ষ আদালত। তার পরেই আদালত এক বেনজির নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, এসআইআরের কাজে তথ্যগত অসঙ্গতির যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করবেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকেরা। কমিশন এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকেরা কেবল বিচারবিভাগীয় ওই আধিকারিকদের সহায়তা করবেন।