Education System in West Bengal

আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণে দুই মন্ত্রী! শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যকে তোপ কেন্দ্রের ধর্মেন্দ্রর, ধরে ধরে জবাব দিলেন ব্রাত্যও

শনিবার কলকাতায় শিক্ষক সম্মেলনের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। প্রধান বক্তা হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪১
(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ( ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ( ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলকে একের পর এক আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাল্টা দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। মিড ডে মিল, জাতীয় শিক্ষানীতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে সোমবার রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন ধর্মেন্দ্র। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিটি আক্রমণের ধরে ধরে জবাব দিলেন ব্রাত্য।

Advertisement

শনিবার কলকাতায় শিক্ষক সম্মেলনের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। প্রধান বক্তা হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, মিড ডে মিলের জন্য কেন্দ্রের পাঠানো টাকা দলীয় কাজে অপব্যবহার করছে তৃণমূল। তিনি বলেন, “মিড ডে মিলের জন্য নরেন্দ্র মোদী বাংলার শিশুদের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী আমাকে দিল্লিতে গিয়ে নথি দেখিয়েছেন। দিল্লি থেকে পাঠানো টাকা তৃণমূলের পার্টিবাজির জন্য খরচ হচ্ছে।” তবে ব্রাত্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “যদি কোথাও এমন কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়, তা হলে যে কেউ এ বিষয়ে এফআইআর দায়ের করতে পারেন। কিন্তু এমন কোনও কিছুই সরকারের নজরে আসেনি।”

পশ্চিমবঙ্গ সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করছে না বলেও অভিযোগ তোলেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর দাবি, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক দিশায় আনতে ২০২০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আসেন মোদী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সরকার তা মানছে না। শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে শিশুদের পড়াশোনা হতে হবে মাতৃভাষায়।” এ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার জন্য তাঁরা পশ্চিমবঙ্গকে নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন।

ধর্মেন্দ্রর এই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন ব্রাত্য। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ২০২৩ সালে রাজ্য শিক্ষানীতি গৃহীত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে যে বিষয়গুলি গ্রহণযোগ্য ছিল, তা রাজ্য শিক্ষানীতিতেও রাখা হয়েছে। ব্রাত্যের বক্তব্য, রাজ্যের শিক্ষানীতি তুলনামূলক ভাবে অনেক উন্নত। পাশাপাশি, শিক্ষা যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়। ফলে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের নিজস্ব নীতি কার্যকর করার ক্ষমতা রয়েছে। মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের যে প্রসঙ্গ ধর্মেন্দ্র তুলেছেন, তারও জবাব দিয়েছেন ব্রাত্য। তিনি জানান, মাতৃভাষায় শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যের নীতি অন্য বিভিন্ন রাজ্যের তুলনায় উন্নত। এ রাজ্যে শুধু বাংলাতেই নয়, সাঁওতালি, রাজবংশী, কামতাপুরী, উর্দু, হিন্দি, নেপালি-সহ বিভিন্ন মাতৃভাষায় পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে।

রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর না-হওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা ‘বঞ্চিত’ হচ্ছে বলেও অভিযোগ ধর্মেন্দ্রর। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছিলাম, দিদি আপনাদের সমগ্র শিক্ষা মিশনে ১৫০০-২০০০ কোটি টাকা দেব। আমরা আপনাদের বেশি করে টাকা দেব। কিন্তু আপনাদের জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গকে এত দিনে আমরা সমগ্র শিক্ষা মিশনে ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি দিয়ে ফেলতাম। মমতাদি রাজ্যকে বঞ্চিত করছেন।” ধর্মেন্দ্রর এই আক্রমণের জবাবে ব্রাত্য লেখেন, “সমগ্র শিক্ষা মিশনের টাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত রাজ্য সরকার পূরণ করেছে। রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কেন্দ্রকে বিস্তারিত জানিয়ে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেগুলির উত্তরে কখনও এই ধরণের অনৈতিক শর্তসাপেক্ষ দাবির কথা বলা হয়নি। এই ধরণের ফ্যাসিবাদী মনোভাব নিন্দনীয়।”

রাজ্যের স্কুলগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবার হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর দাবি, দেশে ৭০ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট পরিষেবা রয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে এই হার মাত্র ১৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই পরিসংখ্যান উড়িয়ে দিয়ে ব্রাত্যের পাল্টা দাবি, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ স্কুলেই ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রয়েছে। বাকি স্কুলগুলিতেও এই মাসের মধ্যেই চলে আসবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রীয় সরকার উৎকর্ষ কেন্দ্রের মর্যাদা দিতে চেয়েছিল, এমন দাবিও করেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর দাবি, রাজ্য এতে বাধা দিয়েছে। যদিও ব্রাত্যের বক্তব্য, সরকারি ভাবে এমন কোনও কিছুই রাজ্য সরকারকে জানানো হয়নি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, দেশের মধ্যে শিক্ষকহীন স্কুলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেও। তবে এই তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেই দাবি ব্রাত্যের। তাঁর বক্তব্য বেশ কিছু বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষা পোর্টালে রয়েছে। সেগুলির শিক্ষক সংক্যা শূন্য হয়ে যাওয়ায় সেগুলি বন্ধ হয়ে যায়। পোর্টালে সেগুলি সরকারি স্কুল হিসাবে রয়ে গিয়েছে। এগুলিকে সংশোধন করে শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে বলে জানান ব্রাত্য। রাজ্যের স্কুলগুলিতে কৃত্রিম মেধা চালু হোক, তা পশ্চিমবঙ্গ সরকার চাইছে না, এই অভিযোগও তুলেছেন ধর্মেন্দ্র। পাল্টা ব্রাত্যও জানান, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম মেধাকে স্কুলগুলির পাঠক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার যে উন্নত কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন, তা-ও ওই পোস্ট স্পষ্ট করে দেন ব্রাত্য।

Advertisement
আরও পড়ুন