—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
প্রচুর টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার পর দেখা যাচ্ছে, গৃহপ্রবেশের পরেই দেওয়ালের সিমেন্ট-বালি ঝরতে শুরু করেছে। বিমা করানোর সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কিছুই মিলছে না। অনলাইনে কেনাকাটা করে খারাপ মানের পণ্য মিলেছে। ছেলেমেয়ের কোচিং সেন্টার প্রচুর টাকা নিলেও দেখা গিয়েছে পড়াশোনা হচ্ছে না।সাধারণ মানুষ এমন হাজারো অভিযোগ নিয়ে ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে হাজির হন।
কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে বকেয়া মামলার সংখ্যা ৮৮ হাজার থেকে বেড়ে ৫.১৫ লক্ষে পৌঁছেছে। কারণ জাতীয়, রাজ্য বা জেলা স্তরের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে প্রচুর পদ খালি পড়ে রয়েছে। ক্রেতা সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে, ৩ থেকে ৫ মাসের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ রাজ্যেই ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মামলা তিন বছরের বেশি ঝুলে রয়েছে।
বুধবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট’ সংস্থা ক্রেতাদের অভিযোগের বিচার ব্যবস্থার বর্তমান ছবি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ক্রেতাদের সবথকে বেশি অভিযোগ বিমা, আবাসন ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে।
রিপোর্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস এন কউল বলেন, ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে শূন্যপদ, বকেয়া মামলা মানুষের আস্থা নষ্ট করে দিচ্ছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, ক্রেতাদের বিচার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন রাজ্য কোথায় দাঁড়িয়ে, সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে প্রথম পাঁচে রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটকের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ‘ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট’-এর প্রধান বলয় সিংহ বলেন, ‘‘অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সাধারণত পিছনের সারিতে থাকে। কিন্তু ক্রেতাদের বিচার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে।’’ পশ্চিমবঙ্গ যেখানে পঞ্চম স্থানে, নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের গুজরাত রয়েছে চতুর্দশ স্থানে।
ক্রেতাদের বিচার পাওয়া নিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে মূলত সংসদে প্রশ্নের জবাবে, সরকারের উত্তর এবং তথ্যের অধিকারআইনে পাওয়া তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। বলয় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব খুবই সমস্যার কারণ। যেমন, কোভিডের পরে চার বছরে দেখা গিয়েছে, স্বাস্থ্য ও বিমার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অভিযোগ প্রচুর বেড়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও বিমা পরিষেবায় অভিযোগ নিয়ে ২.৩ লক্ষ মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে কত মামলায় রায় ক্রেতাদের পক্ষে গিয়েছে, তার হিসেব মেলে না।’’