DA Issues

দাবিদাওয়া নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে রাজস্ব আধিকারিকদের

মুখ্যমন্ত্রীকে সংগঠন জানিয়েছে, অন্যান্য অনেক সার্ভিসে কর্মজীবনের প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত দু’টি বেতনবৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) সুবিধা রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ডিএ না পাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশের মধ্যে উষ্মা ক্রমশ বাড়ছে। ডব্লিউবিসিএস (এগ্‌জিকিউটিভ) অফিসারদের সংগঠনের তরফে থাকা একাধিক দাবিদাওয়াও বিবেচনায় রাখতে হয়েছে নবান্নকে। এই অবস্থায় রাজস্ব-আধিকারিকদের (রেভিনিউ সার্ভিস বা ডব্লিউবিআরএস) সংগঠনও একগুচ্ছ দাবিদাওয়া লিখিত ভাবে জানাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সংগঠনের দাবি, ডব্লিউবিসিএস এগজিকিউটিভ অফিসারদের মতো একই পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়ার পরেও নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে ডব্লিউবিআরএস-দের পরিস্থিতি।

মুখ্যমন্ত্রীকে সংগঠন জানিয়েছে, অন্যান্য অনেক সার্ভিসে কর্মজীবনের প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত দু’টি বেতনবৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) সুবিধা রয়েছে। ‘কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট’ বা পদোন্নতির বাড়তি সুবিধা থাকে। তা ছাড়া পৃথক বেতন-বিধি ইত্যাদি অনেক সুবিধা অন্য সার্ভিসের কর্মী-আধিকারিকেরা পেয়ে থাকেন। সংগঠনের দাবি, সেই কারণে বিগত ১২ বছরের মধ্যে তাঁদের সঙ্গে অন্যান্যদের আর্থিক ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬০ হাজার টাকায়। এমনকি, গ্রুপ-সি স্তরে একজন যুগ্ম বিডিও চাকরি শুরু করার ২৪ বছরের মধ্যে গ্রুপ-এ ডব্লিউবিআরএস অফিসারদের ছাপিয়ে যান। যাকে বৈষম্য হিসাবেই দেখছে সংগঠন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জানানো হয়েছে, এ রাজ্যে ১৮৬৫ জন ডব্লিউবিআরএস আধিকারিক রয়েছেন। যাঁরা প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বা রাজ্যের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৯৫% রাজস্ব আদায় করে থাকেন। যে কারণে কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, সবুজ সাথীর মতো প্রকল্প চালাতে পারছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সংগঠনের দাবি, অন্যান্যদের মতো কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে দু’টি করে অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের সুবিধা দিতে হবে। পদোন্নতির সময়-বিধিও সংশোধন করতে হবে সরকারকে।

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবিদাওয়া নিয়ে গিয়েছিলেন ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) সংগঠনের সদস্যদের অনেকেই। তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এতদিন ধরে সরকার তাঁদের জন্য অনেক পদক্ষেপ করেছে এবং বাকি দাবিগুলিও বিবেচনাধীন। যত দ্রুত সম্ভব তা কার্যকর করা হবে। প্রসঙ্গত, গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা এই আধিকারিকেরা তৃণমূল স্তরে সরকারের কাজকর্ম কার্যকর করে থাকেন। ভোটে তাঁদের ভূমিকা থাকে অনেক। আবার চলতি এসআইআরেও তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই অবস্থায় ডব্লিউবিআরএস সংগঠনের দাবি রাজ্যের উপর চাপ বাড়াল বলে মত আধিকারিকদের একাংশের।

আরও পড়ুন