—প্রতীকী চিত্র।
৪০ নম্বরের প্রশ্নের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারের উত্তরপত্রের পাতার সংখ্যা ২৪! পরীক্ষকেরা খাতা দেখতে গিয়ে দেখছেন, ২৪ পাতা লাগছেই না পরীক্ষার্থীদের। ফলে পাতার পর পাতা নষ্ট হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারে খাতা দেখতে গিয়ে এমনই অভিযোগ করছেন পরীক্ষকেরা।
শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এর আগে উচ্চ মাধ্যমিকের পুরনো পাঠ্যক্রমে ৮০ নম্বরের প্রশ্নে উত্তরপত্রের পাতার সংখ্যা ছিল ২৪। এখন সিমেস্টার পদ্ধতিতে চতুর্থ সিমেস্টারে সেই নম্বর গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০। কিন্তু উত্তরপত্রের পাতার সংখ্যা সেই ২৪! শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পরীক্ষার্থীদের ১০ থেকে ১৫ পাতায় উত্তর লেখা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাকি পাতা নষ্ট হচ্ছে।
বাংলার এক শিক্ষিকা বলেন, ‘‘খাতা দেখার সময়ে দেখছি, বেশির ভাগেরই ১০ পাতার মধ্যে উত্তর লেখা শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা খুব ভাল লিখছে, তাদের বড় জোর ১৫-১৬ পাতা লাগছে। বাকি সাদা পাতায় আমরা লাল পেন দিয়ে দাগ দিয়ে দিচ্ছি। অথবা যেখানে লেখা শেষ করছে সেখানে ‘এন্ড অব একজ়াম’ লিখে দিচ্ছি। যেখানে কাগজ নষ্ট না করতে বলা হচ্ছে, সেখানে এ ভাবে পাতার পর পাতা নষ্ট হতে দেখে খারাপ লাগছে।’’
‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘৮০ নম্বরেরও বরাদ্দ ২৪ পাতা, আবার ৪০ নম্বরের ২৪ পাতা! কেন? দেখা যাচ্ছে সব বিষয়েই উত্তরপত্রের ৫০ শতাংশও ভর্তি হচ্ছে না। যেখানে মোট নম্বর কমে যাওয়ায় কাগজ বাঁচানো যায়, সেখানে কাগজ নষ্ট করাটা দুর্ভাগ্যজনক। উত্তরপত্রের পাতার সংখ্যা বাড়ায় পরীক্ষার খরচও তো বাড়ছে! এ ছাড়া পরীক্ষকেরা যখন খাতা প্রধান পরীক্ষকের কাছে দিতে যাচ্ছেন, তখন অকারণে ব্যাগ ভারী হচ্ছে। উত্তরপত্রের পাতার সংখ্যা কমানোর জন্য উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে আবেদন করেছি।’’
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের যুক্তি, কোনও পরীক্ষার্থীর হাতের লেখা বড় হতে পারে বা কেউ ফাঁকা ফাঁকা করে লিখতে পারে। তাই পাতার সংখ্যা ২৪ করা আছে। যদিও এই যুক্তি মানতে রাজি নন শিক্ষকেরা। তাঁদের প্রস্তাব, ২৪ পাতা কমিয়ে ১৬ পাতা করা হোক। প্রয়োজন হলে লুজ় শিট দেওয়া হোক। শিক্ষা সংসদের দাবি, এর আগে লুজ় শিট দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করে, খাতা দেখার সময়ে তাঁদের লুজ় শিট হারিয়ে ফেলা হয়েছে। পরীক্ষকেরা যার পরিপ্রেক্ষিতে জানাচ্ছেন, এমন অভিযোগ কেউ করলে তার খাতার স্ক্রুটিনি করলেই ধরা পড়ে যাবে, লুজ় শিট হারিয়েছে কিনা। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এক কর্তা বলেন, ‘‘এই প্রথম চতুর্থ সিমেস্টার হল। যে যে অসুবিধা দেখা যাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে সে সবের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’