মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সোমবার ফের বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হল সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (ডিএ)। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকার পক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। এ অবস্থায় সোমবারের বৈঠকে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা ডিএ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা।
রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পর গত সোমবার নবান্নে প্রথম বৈঠকে বসেছিল নতুন মন্ত্রিসভা। ওই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী সোমবার ফের বৈঠকে বসবে মন্ত্রিসভা। দ্বিতীয় বৈঠকে কী কী বিষয় উঠে আসবে, তা-ও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই তালিকায় রয়েছে সরকারি কর্মীদের ডিএ-র প্রসঙ্গ। পাশাপাশি বেতন কমিশনের প্রসঙ্গও রয়েছে।
ডিএ নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেলও করেছে ‘বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ় অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনের বক্তব্য, বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। কিন্তু তার পরেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের চেয়ে ৪২ শতাংশ কম ডিএ পান তাঁরা। নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে যাতে ডিএ অন্তত ১২ শতাংশ বৃদ্ধি করে সেটিকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত করে দেওয়া হয়, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সেই আর্জি জানিয়েছে তারা।
বস্তুত, রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবি করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে সমহারে ডিএ-র দাবিও রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরেই। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে পূর্বতন সরকারের আমলে হাই কোর্ট এবং সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন সরকারি কর্মীরা। তৎকালীন সরকার ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে’ ডিএ আটকে রেখেছে, এমন অভিযোগও তুলে আসছেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের ডিএ দেওয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৯-২০১৯ সাল পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, ওই রায় তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সেখানে বলা হয়েছিল, মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বকেয়ার বাকি অংশ কত টাকা করে দেওয়া হবে এবং কী ভাবে, তা আগামী ৬ মার্চের মধ্যে জানাতে হবে কমিটিকে। কমিটির বিবেচনা অনুযায়ী প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। অর্থাৎ, বকেয়া ডিএ-র ৭৫ শতাংশের মধ্যে কমিটির নির্ধারণ করা প্রথম কিস্তির টাকাও মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তবে এরই মধ্যে আবার বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করে বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার।
এ বারের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি ঘোষণা করেন, সরকারি কর্মীরা রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ থেকেই পেতে শুরু করবেন। কিন্তু সরকারি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত তারিখ পেরিয়ে গেলেও ডিএ মেলেনি। কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করছেন যে তাঁদের বলা হয়েছিল, ডিএ-র একটি অংশ তাঁদের পিএফ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তাতে এখনও পর্যন্ত সেই ডিএ পৌঁছোয়নি বলে দাবি সরকারি কর্মীদের। এ অবস্থায় রাজ্যে পালাবদলের পরে নতুন সরকারের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কি ডিএ সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে, সে দিকে নজর গোটা রাজ্যের সরকারি কর্মীদের।