Sexual Harassment In London

পশ্চিম লন্ডনে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর হাত থেকে নির্যাতিতাকে রক্ষা পরিত্রাতা শিখ বাহিনীর, চলল বিক্ষোভও

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই এলাকায় থাকেন সেখানে ২০টি স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন ওই বাড়ির সামনে দিয়ে প্রচুর পড়ুয়া যাতায়াত করে। বুধবার ওই ব্যক্তি ১৬ বছরের কিশোরীকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর আরও ছ’জন ছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:২০
প্রায় ২০০ জন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয় বিক্ষোভ দেখান।

প্রায় ২০০ জন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয় বিক্ষোভ দেখান। ছবি: সংগৃহীত।

এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল পাকিস্তানি ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সাত জনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রায় ২০০ জন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয় বিক্ষোভ দেখান। তাঁরাই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন। বুধবার ঘটনাটি পশ্চিম লন্ডনের হাউন্সলো এলাকায় ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। ঘণ্টাখানেকের বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত সাত জনের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নাবালিকাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যে এলাকায় থাকেন, সেখানে ২০টি স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন ওই বাড়ির সামনে দিয়ে প্রচুর পড়ুয়া যাতায়াত করে। বুধবার ওই ব্যক্তি ১৬ বছরের কিশোরীকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর আরও ছ’জন ছিলেন। অভিযোগ, তাঁরা নাবালিকাকে গণধর্ষণ করেন। জানতে পেরে ঘটনাস্থলে প্রায় ২০০ জন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ পৌঁছোন। তাঁরাই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন। দেখান বিক্ষোভও।

বিক্ষোভের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে (যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়োটিতে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর অভিযুক্তদের একটি পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই বিক্ষোভে শামিল ছিলেন কিশোরীর বাবা-মাও। শিখ সম্প্রদায়ের ওই বিক্ষোভকারীরাই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময়ে তাঁরা ‘জো বোলে সো নিহাল, সত শ্রী আকাল’ স্লোগান দিতে থাকেন।

শিখদের একটি সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরীর যখন ১৩ বছর বয়স ছিল, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে একটি সম্পর্ক হয় তার। কিশোরীর যখন ১৬ বছর বয়স হয় তখন তাকে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন ওই ব্যক্তি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নানা কৌশল ব্যবহার করায় এত দিন তাঁকে আটক করতে পারেনি।

নাবালক-নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে মাদকাশক্তি বা ধর্ম পরিবর্তন, কিছুই নাকি বাকি রাখেনি পাকিস্তানি এই ‘গ্রুমিং গ্যাং’। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই দলের সদস্যদের নিশানায় মূলত স্কুল বা শিশু আবাসিক কেন্দ্রগুলি থাকে। সেখানেই গাড়ি এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তাঁরা। ‘গ্রুমিং গ্যাং’য়ের মধ্যে এমন কয়েক জন রয়েছেন, যাঁরা কথাবার্তায় বেশ পটু। নাবালক-নাবালিকাদের সঙ্গে দ্রুত বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলেন তাঁরা। এর পর চকোলেট এবং বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। শেষে ওই কিশোর বা কিশোরীকে মদ-সিগারেট এবং অন্যান্য মাদকের নেশা ধরান তাঁরা। শেষ ধাপে তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে চলে যৌন নির্যাতন। এর পাশাপাশি ‘গ্রুমিং গ্যাং’য়ের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্মান্তরণের অভিযোগও।

Advertisement
আরও পড়ুন