Iran-Israel Conflict

খামেনেইয়ের পর লারিজানিই ছিলেন নিশানা নম্বর ২! কী ভাবে ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের হদিস পেল ইজ়রায়েল-আমেরিকা?

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলে গিয়েছিলেন লারিজানি। দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনেইয়ের পর ইরান প্রশাসনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন লারিজানি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৮
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ খামেনেইয়ের (বাঁ দিকে) পর নিশানায় ছিলেন নিরাপত্তা প্রধান  লারিজানি (ডান দিকে)।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ খামেনেইয়ের (বাঁ দিকে) পর নিশানায় ছিলেন নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পর আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের নিশানার তালিকার দু’নম্বরে ছিলেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলে গিয়েছিলেন লারিজানি। দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনেইয়ের পর ইরান প্রশাসনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন লারিজানি। খামেনেই-ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।

Advertisement

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লারিজানির হদিস পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। কিন্তু, লারিজানির হদিস যে সহজে মিলবে সেটা তারা জানত। আর খামনেইয়ের মৃত্যুর পর লারিজানি তাঁর গতিবিধিরও কৌশল একেবারে বদলে ফেলেছিলেন যাতে সহজে তাঁর হদিস কেউ না পায়। শুধু নিজে নয়, ইরান প্রশাসনের শীর্ষনেতা এবং সামরিক কর্তাদের নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লারিজানি ভাল ভাবে জানতেন কী ভাবে নজরের আড়ালে থাকা যায়। খামনেইয়ের পর যে তিনিও নিশানা হতে চলেছেন, সেটা আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই সতর্কতামূলক পরিকল্পনাগুলিকে এমন ভাবে কাজে লাগানো শুরু করেন যাতে তাঁর গতিবিধির হদিস পেতে ইজ়রায়েল-আমেরিকার ‘কালঘাম’ ছুটে যায়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান অনবরত ঠিকানা বদলাচ্ছিলেন। যাতে সহজে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করতে না পারে শত্রুপক্ষ। গত দু’সপ্তাহ ধরে এই কৌশল নিয়েই চলাফেরা করছিলেন। নতুন নতুন আস্তানায় আশ্রয় নিচ্ছিলেন। ফলে ইজ়রায়েলের গোয়েন্দারা যত ক্ষণে লারিজানির গোপন ডেরা চিহ্নিত করছিলেন, তত ক্ষণে তিনি সেই ডেরা থেকে অন্য ডেরায় আশ্রয় নিচ্ছিলেন। ফলে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে মঙ্গলবার তাঁর কন্যার বাড়ি যাওয়াই ‘কাল’ হল। দু’সপ্তাহ ধরে ইঁদুরদৌড় করানোর পর অবশেষে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করে ফেলেন ইজ়রায়েলের গোয়েন্দারা। তেহরানের পারদিস এলাকায় তাঁর কন্যার বাড়িতে ছিলেন লারিজানি। সেখানেই হামলা চালায় ইজ়রায়েল। হামলায় মৃত্যু হয় লারিজানি, তাঁর পুত্র এবং বেশ কয়েক জন দেহরক্ষীর।

তবে ইজ়রায়েল সরকারের এক সূত্রের দাবি, লারিজানির হদিস পাওয়া গিয়েছিল তেহরানের বাসিন্দাদের কাছ থেকে। তাঁদের সহযোগিতাতেই লারিজানির অবস্থান জানতে পারা যায়। সেই খবরের সূত্রেই পারদিসে লারিজানির কন্যার বাড়িতে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। তবে লারিজানির মৃত্যু যে বৃথা যাবে না, সেই প্রতিজ্ঞা করেছে ইরান। শুধু লারিজানিই নন, ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামিকেও হত্যা করা হয়। এই দুই শীর্ষনেতার মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

Advertisement
আরও পড়ুন