সম্প্রতি পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ চালান এই দুই বালোচ যোদ্ধা। —ফাইল চিত্র।
সাধারণ বালোচ জনতার কাছে নিজেদের বিদ্রোহকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাইছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সম্ভবত সেই কারণেই বিভিন্ন ফিদায়েঁ হামলায় মহিলাদের এগিয়ে আনা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে বিভিন্ন আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে মহিলা যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তার পরে সেই মহিলাদের ‘আত্মত্যাগ’ ছবি-সহ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে মহিলাদের উপস্থিতি খুবই কম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বালোচ জনগোষ্ঠীর কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করতে চাইছে বিদ্রোহীরা।
সম্প্রতি এমনই এক আত্মঘাতী হামলার পরে ইয়াসমা বালোচের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিল বালোচ বিদ্রোহীরা। ইয়াসমা এবং তাঁর স্বামী ওয়াসিমের ছবি একসঙ্গে পোস্ট করা হয়। দু’জনেই হাসিমুখে যোদ্ধার বেশে কাঁধে রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে। ইয়াসমা হাত উঁচিয়ে ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। চলতি মাসেও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পরে দুই ‘মানববোমা’ তরুণীর ছবি প্রকাশ করেছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ)।
রয়টার্সের হাতে এমন অন্তত আধ ডজন ছবি এসেছে, যেগুলির সত্যতা প্রাথমিক ভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, নিজেদের প্রচারের জন্য এই মহিলা মুখেদের ছবি ব্যবহার করছে বালোচ বিদ্রোহীরা।
পাকিস্তানের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধরিরও মেনে নিচ্ছেন, মহিলাদের নিয়োগ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে চাইছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাঁর কথায়, মহিলাদের এমন কর্মকাণ্ড বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আরও বেশি সদস্য নিয়োগে সাহায্য করে। তালাল বলেন, “এগুলি বিদ্রোহীদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লড়াই যে বালোচদের ঘরে ঘরে প্রবেশ করেছে, এই ভাবনা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকট করতে সাহায্য করে এগুলি।” যদিও এ বিষয়ে বিএলএ-র তরফে কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পাকিস্তানের এক শীর্ষ আধিকারিক হামজা শাফায়াত রয়টার্সকে জানান, বিএলএ-র সাম্প্রতিক হামলা যুক্ত থাকা ছ’জন মহিলার মধ্যে তিন জনই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে জড়িত ছিলেন। এর আগে এমন পাঁচ জন মহিলা ‘মানববোমা’র খবর পাওয়া গিয়েছিল। যার মধ্যে প্রথম ঘটনাটি ছিল ২০২২ সালে। পরবর্তী সময়ে আরও তিন জনকে আটক করা হয়েছিল। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, খুব কম সংখ্যক মহিলাই বিএলএ-তে যোগ দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, এই মহিলাদের নিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ বালোচদের কাছেও বার্তা দিতে চায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কূটনৈতিক বিশ্লেষক পার্ল পাণ্ডের কথায়, “এটি বিদ্রোহের একটি বৃহত্তর বার্তা। (বালোচ) জনজাতিতে পুরুষতন্ত্রের গণ্ডি ছাপিয়ে একটি বৃহত্তর অংশকে এগিয়ে আনা হচ্ছে।”