Bangladesh General Election

‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার জেরেই বাতিল বিপুল মনোনয়ন’! জামাতের পর ভোট নিয়ে অভিযোগ এনসিপির

জামায়াতে ইসলামি সোমবার অভিযোগ করেছিল, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। মঙ্গলবার তাদের সহযোগী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪২
Bangladesh NCP alleges, huge number of nominations cancelled due to political biasness

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (‘জামাত’ নামে যা পরিচিত)-পরে এ বার তাদের সহযোগী এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলল। মনোনয়নপত্র পরীক্ষাপর্বে কোনও কোনও ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব দেখা গিয়েছে বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ২৫৬৮ জন। তাঁর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র! বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৮৪২ জন প্রার্থী। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ২৮ শতাংশ প্রার্থীরই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার একটি আসন থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া দলত্যাগী এনসিপি নেত্রী তাসনিম জ়ারাও। তিনি মনোনয়ন পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার তিনি কমিশনে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আপিল করেছেন।

আসিফ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার পরে তিনি বলেন, ‘‘রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে যাতে কোনও ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করা না হয়, সে বিষয়টি আমরা সিইসিকে বলেছি। বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধিভঙ্গের নমুনা সিইসির কাছে তুলে ধরা হয়েছে।’’ বাংলাদেশের ভোটে গত ১২-২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। কোনও মনোনয়ন বাতিল হলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি হবে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে ২১ জানুয়ারি। অর্থাৎ আপিলের ভিত্তিতে আরও কয়েক জন প্রার্থীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০-টি আসনের পাশাপাশি একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। জুলাই আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশের সদ্যগঠিত দল এনসিপি ভোটে ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’ জামাতের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সোমবার রাতে জামাতের শীর্ষনেতা (আমির) শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকের পরে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়। দলের বিবৃতিতে লেখা হয়, ‘‘বৈঠকে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন