India-Bangladesh Relation

‘এ বার দেশ গড়ার পালা’! তারেকের কণ্ঠে ঐক্যের সুর, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুললেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী

‘অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু’ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সে দেশের নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানালেন তারেক রহমান। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ভোটের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করা হবে। যদি বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না-যায়, তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪১
BNP’s Tarique Rahman comments on India-Bangladesh Ties

বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। ছবি: রয়টার্স।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে সে দেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিলেন ঐক্যের উপর। তিনি বোঝাতে চাইলেন, নির্বাচন এবং তার ফলপ্রকাশ এখন অতীত। এ বার বাংলাদেশকে মানবিক ভাবে গড়ার পালা। বিএনপি-প্রধানের কথায়, ‘‘দুর্নীতি সরিয়ে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ এবং মানবিক দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’’ তারেক বলেন, ‘‘এই জয় বাংলাদেশের। এই জয় গণতন্ত্রের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।’’

Advertisement

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘ডেলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়ের পর ঢাকার এক হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন তারেক। সেই সাংবাদিক বৈঠকে সদ্যসমাপ্ত জয় নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান বিএনপি-প্রধান। তাঁর কথায়, ‘‘বহু প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছি।’’ তারেক মনে করেন, গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং বিরোধী দলগুলি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। তারেকের মতে, সকলের মত এবং পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি। বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’’

‘অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু’ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সে দেশের নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তারেক। তাঁর দাবি, ‘‘ভোটের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করা হবে। যদি বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না-যায়, তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার তাদের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।’’ সেই অবস্থায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেন তারেক। বিজয়োৎসব নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্কতা অবলম্বন করার বার্তা দেন বিএনপি-প্রধান। তাঁর আহ্বান, কোনও উস্কানিতে পা না-দিয়ে শান্ত থাকতে হবে সকলকে।

তারেকের সাংবাদিক বৈঠকে উঠে আসে ভারত এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কথা। বিএনপি-প্রধান বলেন, ‘‘আমরা আমাদের বিদেশনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এই নীতি তৈরি হবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থের উপর। সেখানে সর্বদাই বাংলাদেশ এবং দেশের নাগরিকদের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে। সেই ভিত্তিতে আমরা আমাদের বিদেশনীতি ঠিক করব।’’

২০২৪ সালের অগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে সম্পর্ক আরও কিছুটা খারাপ হয়। বিএনপির জয়ের পর সেই সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে মনে করছেন অনেকে। বিএনপি প্রধানের বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ভোটে বিএনপির জয় নিশ্চিত হতেই তারেককে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মোদী। তারেকের সঙ্গে ফোনে কথাও হয় তাঁর। দুই নেতাই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের উপর জোর দেন। তবে শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করেননি তারেক। অনেকের মতে, শুধু ভারত নয়, ‘বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থের’ কথা বলে তিনি অন্য দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অবস্থান স্পষ্ট করলেন।

Advertisement
আরও পড়ুন