Bangladesh Parliament Session

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে এ বার মুলতুবি প্রস্তাব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে! কিন্তু সিদ্ধান্ত ঝুলেই রইল

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, জুলাই সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের একটি স্তর ছিল গণভোট।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০১:০২
বাংলাদেশের সংসদ ভবন।

বাংলাদেশের সংসদ ভবন। ছবি: পিটিআই।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার জন্য এ বার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব আনা হল। সোমবার ওই প্রস্তাব এনেছেন নির্দল সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তবে এটি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

Advertisement

স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। রাত সওয়া ৮টা সংসদের অধিবেশন মুলতবি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেননি বিএনপি-র সংসদ সদস্যেরা। তারপরেই গণভোটে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, জুলাই সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের একটি স্তর ছিল গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নে চলতি সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রতিনিধিরা যোগ না দেওয়ায় এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীরা জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিতে সরব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন বাংলাদেশের বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই সনদে সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রস্তাবগুলির বাস্তবায়নে যে গণভোট হয়, তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘হ্যাঁ’ অর্থাৎ সম্মতিসূচক ভোট দিয়েছেন। জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে থাকা বেশ কিছু প্রস্তাবে আগেই ভিন্ন মত জানিয়ে রেখেছিল বিএনপি।

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৮৪ দফা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল ওই গণভোটে। যে চারটি বিষয়ের উপর গণভোট হয়, সেগুলি হল—

১. নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলির ঐকমত্য হয়েছে সেগুলি বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দল বা জোট বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন