— প্রতীকী চিত্র।
অভিবাসীদের জন্য আরও কঠিন নিয়ম আনতে চলেছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্রের খবর, নতুন করে আনা একাধিক বিলের মাধ্যমে এইচ-১বি ভিসার প্রক্রিয়াই হয় স্থগিত, নয় বাতিল করে দিতে চায় প্রশাসন। এই বিল কার্যকর হলে আগামী দিনে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে অভিবাসী ভারতীয়দের ভবিষ্যৎও।
‘এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ় অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, নয়া এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে স্থগিত রাখা হবে। যাঁদের কাছে বর্তমানে এই ভিসা রয়েছে, তাঁরা এই সময়ের মধ্যে নিজেদের দেশে ফিরে যাবেন বলে ‘আশা’ করছে রিপাবলিকানরা। এ ছাড়াও বলা হয়েছে, আগামী দিনে বছরে ২৫ হাজার ভিসা দেওয়া হবে। বর্তমানে এই সংখ্যা ৬৫ হাজার। বলা হয়েছে, লটারির বদলে বেতনের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম বার্ষিক বেতন ২০ লক্ষ ডলার হতেই হবে। এ ছাড়াও ওই বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, কোনও পদে অভিবাসীকে নিয়োগ করার আগে ওই সংস্থার তরফে সংশাপত্র দিয়ে জানাতে হবে যে কোনও আমেরিকানকে ওই পদে নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। এ-ও বলা হয়েছে, যে অভিবাসীরা আমেরিকায় চাকরি করতে আসবেন তাঁরা একাধিক কাজে যোগ দিতে পারবেন না।
রিপাবলিকান কংগ্রেসের সদস্য এলি ক্রেনের দাবি, এই বিলের কারণে বহু আমেরিকান উপকৃত হবেন। বিলের সমর্থকরা এই বিলের সঙ্গে সহমত হয়ে বলেছেন, “এইচ-১বি ভিসার প্রক্রিয়া কঠোর হলে আমাদের আমেরিকান কর্মীরা বিদেশি কর্মীদের থেকে বেশি সুবিধা পাবেন।” রিপাবলিকান কংগ্রেসের অপর এক সদস্য ব্র্যান্ডন গিল বলেন, ‘এলির এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানাচ্ছি’।
এলির বিলের মতোই বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসের সদস্যেরা। অ্যান্ডি ওগেলস্-এর ‘অ্যাসিমিলেশন অ্যাক্ট’-এ যেমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আমেরিকায় যে অভিবাসীরা আসবেন, তাদের আমেরিকার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা কংগ্রেসের নির্ধারিত পথেই নিশ্চিত করতেই হবে’। গ্রেগ স্টিউবের প্রস্তাবিত ‘দ্য এক্সাইল অ্যাক্ট’-এ বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আর কোনও ভিসা দেওয়াই হবে না ২০২৭ সাল থেকে। স্টিউবের দাবি, এইচ-১বি ভিসার কারণে আমেরিকান নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই অভিবাসীদের কোনও রকম ভাগ দেওয়া যাবে না। চিপ রয়ের প্রস্তাবিত ‘দ্য পজ় অ্যাক্টে’ একই ধরনের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তি থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে নিয়োগ করা হয় আমেরিকায়। এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি হলে আগামী দিনে তাঁদের ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে নানা মহলে।