(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
দিন কয়েক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানে আর তিন-চার সপ্তাহ চলতে পারে যুদ্ধ। এ বার তিনি দাবি করলেন ইরানে যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। সেখানকার তেলের খনি আমেরিকা দখল করবে কি না, সেই নিয়েও ইঙ্গিত দিলেন। ইরান অবশ্য সে সব শুনে আরও কড়া জবাব দিয়েছে। সেখানকার রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের লক্ষ্যবস্তু নিশানা করে প্রত্যাঘাত কবে থামানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। ওই অঞ্চলের ভবিষ্যৎও এখন তেহরানেরই হাতে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে বসেছেন আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনেই। আর তা করেই তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, এত তাড়াতাড়ি আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাত থামাতে তারা নারাজ। এ বার ট্রাম্পের সোমবারের মন্তব্যের পরে একটি বিবৃতি দিয়ে রেভলিউশনারি গার্ড কোর বলেছে, ‘‘যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’’ তারা আরও বলে, ‘‘এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ এখন আমাদের বাহিনীর হাতে। আমেরিকার সেনা যুদ্ধ শেষ করবে না।’’
কী বলেছিলেন ট্রাম্প? মায়ামির গল্ফ রিসর্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান নেতাদের বলেন, ‘‘কিছু দুষ্টকে সরাতে আমরা মধ্য-প্রাচ্য (পশ্চিম এশিয়া)-এ ভ্রমণ করেছি। আপনারা দেখবেন, এটা স্বল্প সময়ের ভ্রমণই হবে।’’ তিনি আরও জানান, তেহরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ অভিযান ‘শেষের পথে’। সিবিএস নিউজের সাংবাদিক ওয়েইজা জিয়াং জানান সোমবার (আমেরিকার সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে ফোনে বলেন, ‘‘আমার মনে হয় যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে। অনেকটাই। ওদের (ইরান) কোনও নৌসেনা নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, কোনও বায়ুসেনা বাহিনী নেই।’’
তার পরেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি ইরানের তেলের খনির কর্তৃত্ব নিজের হাতে রাখবে আমেরিকা? সেই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে জানান, তিনি এই নিয়ে এখন আলোচনা করতে চান না। তার পরেই বলেন, ‘‘অবশ্যই লোকজন এই নিয়ে কথা বলছে।’’ মনে করা হচ্ছে, ইরানের তেলের খনির কর্তৃত্ব নিয়ে যে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তথা শিল্পপতি ট্রাম্প, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। আর এর পরেই কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের বাহিনী, যার রাশ এখন নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবার হাতে।
ইরানে রাষ্ট্রপুঞ্জের দূতের সূত্র বলছে, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় সে দেশে এখন পর্যন্ত ১,৩৩২ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হাজার হাজার। লেবাননেও সমান্তরাল ভাবে হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। সেখানে নিহত প্রায় ৪০০ জন। পাল্টা পশ্চিম এশিয়ার যে সব দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে প্রত্যাঘাত করছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের। টান পড়েছে এলপিজি-তে।