Ex-Prince Andrew Arrest

মুক্তি কিন্তু স্বস্তি নয়! দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ, প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ছাড়া পেলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু

বৃহস্পতিবার সান্ড্রিংহাম প্যালেস থেকে অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিতর্কে তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৮
Former Prince Andrew released but still under investigation

ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু। —ফাইল চিত্র।

প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া পেলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু (বর্তমান নাম অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর)। পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়া পেলেও তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় থাকতে হবে তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত যেমন চলছে, তেমনই চলবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সান্ড্রিংহাম প্যালেস থেকে অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিতর্কে তিনি। গ্রেফতারির পর টেম্‌‌স ভ্যালি পুলিশের তরফে যে বিবৃতি জারি করা হয়, তাতে সরাসরি অ্যান্ড্রুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। দেখানো হয়েছে ‘ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি’ হিসাবে। কী অভিযোগে গ্রেফতারি? পুলিশের তরফে বলা হয়, ‘‘তদন্তে নেমে আজ আমরা নরফক থেকে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছি। তিনি সরকারি পদে থেকে অসৎ আচরণ করেছেন, এমন সন্দেহ থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।”

গ্রেফতারির নেপথ্যে যে এপস্টিন ফাইল বিতর্ক রয়েছে, তা-ও মনে করেন অনেকে। মার্কিন নথির একটা বড় অংশ জুড়ে এপস্টিন এবং অ্যান্ড্রুর ‘বন্ধুত্বের’ উল্লেখ রয়েছে। কী ভাবে তাঁদের আলাপ, কে কাকে কী ভাবে সাহায্য করতেন— এমন নানা তথ্য রয়েছে। অভিযোগ, অ্যান্ড্রু নাকি সরকারি সংবেদনশীল নানা নথি এপস্টিনকে হস্তান্তর করেছিলেন! যদিও সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার দিনভর বের্কশায়ার এবং নরফকের কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চালায় টেম্‌‌স ভ্যালি পুলিশ। বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, অ্যান্ড্রুকে সান্ড্রিংহাম প্রাসাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের তরফে সরাসরি কিছু বলা না-হলেও অনেকে মনে করছেন, এপস্টিন ফাইল সংক্রান্ত তদন্তে নেমেই ব্রিটেনের প্রাক্তন এই যুবরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এপস্টিন বিতর্কে নাম জড়ানোর পর থেকেই ব্রিটেনের রাজ পরিবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে। গত অক্টোবর মাসে ব্রিটেনের রাজপরিবারের তরফে অ্যান্ড্রুর খেতাব এবং সম্মাননা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একটি বিবৃতি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, যাঁরা যে কোনও ধরনের নিগ্রহের শিকার, ব্রিটেনের রাজপরিবারের সমবেদনা তাঁদের সঙ্গে রয়েছে।

অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাজপরিবারের তরফে প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়। অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারির পর বিবৃতি দেন রাজা চার্লস। জানিয়েছেন, তিনি এই সংবাদে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’। আইন আইনের পথে চলবে এবং তদন্তে তিনি সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত। যদিও এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে নীরব অ্যান্ড্রু।

Advertisement
আরও পড়ুন