US-Iran Ceasefire

ধ্বংসের হুঁশিয়ারি থেকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা! কোন পথে শান্তি ফিরল পশ্চিম এশিয়ায়

মঙ্গলবার দিনের শুরুটা হয়েছিল ট্রাম্পের এক ‘বিধ্বংসী’ পোস্টের মাধ্যমে। সেই পোস্টে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক অতীতে ইরান এমন হামলা দেখেনি, যা আজ দেখবে। সেখান থেকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৮
How a ceasefire between America and Iran was possible

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা (আমেরিকার স্থানীয় সময়)। ওয়াশিংটন ডিসির দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ঘড়ির কাঁটা দ্রুত ঘুরছিল। কাঁটা এগোচ্ছে রাত ৮টার (স্থানীয় সময়) দিকে। ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হতে তখনও বাকি ৯০ মিনিট অর্থাৎ দেড় ঘণ্টা। কী হবে তার পরে সে দিকে নজর রাখছিলেন সকলে। তখনই ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির বার্তা পৌঁছে যায় সকলের কাছে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন অনেকে। তবে কী ভাবে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে পৌঁছোল আমেরিকা, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।

Advertisement

মঙ্গলবার দিনের শুরুটা হয়েছিল ট্রাম্পের এক ‘বিধ্বংসী’ পোস্টের মাধ্যমে। সেই পোস্টে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক অতীতে ইরান এমন হামলা দেখেনি, যা আজ দেখবে। আজ (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যেই একটা সভ্যতার ধ্বংস হবে। তবে এ-ও লেখেন, ‘আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটবে।’ তবে ওই পোস্টে ট্রাম্প ‘ইতিবাচক’ কিছু ঘটতে পারে, এমন আশা প্রকাশও করেছিলেন। তিনি জানান, শেষ মুহূর্তে হয়তো অভিযান বাতিল করতে হতে পারে তাঁকে। বাস্তবে হলও তাই।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে রবিবার ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (আমেরিকার সময় অনুযায়ী, ভারতীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) মধ্যে যদি ইরান কথা না শোনে, তবে তাদের নরকে পাঠানো হবে। হামলার পরিকল্পনাও ছকে ফেলেছিল মার্কিন বাহিনী। ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালানো হবে, তার তালিকাও প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় ছিল সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, জল সরবরাহ পরিকাঠামো। অর্থাৎ, আমেরিকা চেয়েছিল ইরানের মৌলিক চাহিদাগুলির উপর হামলা চালানোর।

ইরানের প্রস্তুতি

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরেও হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ খোলার ব্যাপারে ইরানের তরফে কোনও ‘ইতিবাচক’ পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল বিশ্বের কূটনৈতিক মহল। অনেকের আশঙ্কা ছিল, ইরানের তৈলভান্ডারে আঘাত হানতে পারে আমেরিকা। ফলে বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ইরানও প্রতিরোধের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে রক্ষা করতে মানববন্ধন গড়ার ডাক দেয় তেহরান। ইরানের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টো (ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে) থেকে জমায়েতের কথা বলেছিল ইরানের ক্রীড়া এবং যুব মন্ত্রক। শুধু তা-ই নয়, প্রত্যাঘাতের পরিকল্পনাও করছিল ইরান।

যুদ্ধবিরতি

ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা যত শেষের দিকে এগোতে থাকে, ততই উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। তবে তার মধ্যেই বেশ কয়েক জায়গায় ফোন করে ফেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। আমেরিকা এবং ইরানের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে তো বটেই, অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। মঙ্গলবারই জানান, তিনি দু’টি অনুরোধ করেছেন। এক, ট্রাম্প যেন এখনই ইরানে হামলা না-চালান। তাঁর দেওয়া সময়সীমা যেন দু’সপ্তাহ বাড়িয়ে দেন। দুই, ইরান যেন ওই সময়ের জন্য হরমুজ় প্রণালী খুলে দেয়।

হোয়াইট হাউসের দরজার আড়ালে

ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ১০ দফা প্রস্তাব আগেই আমেরিকার কাছে পাঠিয়েছিল। মঙ্গলবারই সেই প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। তবে সেই বৈঠক ফলপ্রসু কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।

ঘোষণা

সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিট নাগাদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহবাজ় শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আমার আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তাঁরা আমাকে আজ রাতে ইরানের দিকে ধ্বংসাত্মক শক্তি না পাঠানোর অনুরোধ করেন। ইরানও অবিলম্বে হরমুজ় প্রণালীর সম্পূর্ণ ও নিরাপদ উন্মোচনে সম্মত হওয়ার শর্তে রাজি হওয়ায় আমি দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ এবং হামলা স্থগিত করতে রাজি হচ্ছি।”

Advertisement
আরও পড়ুন