প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
শত্রুপক্ষের সেনার হাতে কোনও ভাবেই ধরা পড়া যাবে না। বিপক্ষের আকাশসীমায় ঢুকে সামরিক অভিযান চালানোর সময় কী ভাবে শত্রুপক্ষের হাত থেকে বাঁচতে হবে, তার বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় মার্কিন বাহিনীর পাইলটদের। শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় ঢুকলে বিমান নিশানা হতে পারে। অথবা কোনও কারণে যান্ত্রিক গোলযোগ হলেও শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এত আশঙ্কার মাঝেও কী ভাবে পাইলটেরা নিজেদের ওই এলাকা থেকে বার করে নিয়ে আসবেন, কী ভাবে বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও সেই বাধা পেরিয়ে আসতে পারেন, বেশ কয়েকটি ধাপে তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ঘটনাচক্রে, ইরান দাবি করেছে শুক্রবার আমেরিকার দু’টি যুদ্ধবিমান এফ-১৫ ই এবং এ-১০ ওয়ার্টহগকে গুলি করে নামিয়েছে। এফ ১৫ এর এক পাই?টকে উদ্ধার করা গেলেও, অন্য জন নিখোঁজ। এ রকম পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের মাটিতে কী ভাবে নিজেদের বাঁচাবেন মার্কিন পাইলটেরা, তার জন্য বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণে মূলত চারটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়। যেটিকে সংক্ষেপে এসইআরই বা সেরে বলা হয়। যার অর্থ হল, সার্ভাইভাল (এস) অর্থাৎ নিজেকে কী ভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়। এসকেপ (ই) অর্থাৎ বিপদে পড়লেই পালানোর চেষ্টা করতে হবে। রেজ়িস্ট্যান্স (আর) অর্থাৎ শত্রুপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদ, অত্যাচার এবং মতাদর্শগত প্রভাব প্রতিরোধ করার প্রশিক্ষণ, ইভেশন (ই) অর্থাৎ শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা।
সামরিক অভিযানে যাওয়া যুদ্ধবিমানগুলির পাইলটের ইজেকশন আসনের নীচে ‘সার্ভাইভাল কিট’ থাকে। তার মধ্যে পাইলটদের পোশাক, হেলমেট, রেডিয়ো এবং কিছু অস্ত্র রাখা থাকে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য যা যা প্রয়োজন ওই কিটে রাখা থাকে। ওই ‘সার্ভাইভাল কিট’-এ থাকে যোগাযোগকারী বিভিন্ন যন্ত্র, জিপিএস ব্যবস্থা, কম্পাস, সিগন্যাল মিররের মতো জিনিস। যাতে শত্রুপক্ষের কোন এলাকায় পাইলট রয়েছেন, তা সহজে বুঝে নিয়ে নিজের দেশের সেনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ওই কিটের মধ্যে থাকে স্মোক বম্ব, স্ট্রোব লাইট, গ্লো স্টিকস। যাতে তাঁর দেশের উদ্ধারকারী বিমান বা হেলিকপ্টার সহজে খুঁজে পায়, এগুলি জ্বালিয়ে তাঁর অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন।
সার্ভাইভাল মানে শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে চলা নয়। বেঁচে থাকার জন্য জল, খাবার, ওষুধও থাকে ওই কিটে। অন্তত তিন থেকে সাত দিন চালানোর মতো ব্যবস্থা থাকে। ইজেকশনের সময় পাইলটের আহত হওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে। ফলে সেই পরিস্থিতিতে যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিজেই করতে পারেন পাইলট, তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম থাকে। অতিরিক্ত রক্তপাত কী ভাবে আটকানো যায়, সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া থাকে তাঁদের। কনকনে ঠান্ডা, প্রচণ্ড গরম, ঝড়বৃষ্টিতে কী ভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়, ‘সেরে’-তে সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। যদি পাইলট সমুদ্রে বা কোনও হ্রদে পড়েন, তা হলে ইনফ্লেটেবল লাইফ র্যাফ্ট এবং উজ্জ্বল রঙের ‘সি ডাই’ থাকে। এই উজ্জ্বল রং জলে ছড়িয়ে দেন পাইলট। যাতে অনেক উঁচু থেকেও দেখা যায় তাঁকে। ফলে উদ্ধার করতে সুবিধা হয়।
প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইভেশন (ই)। এই পর্যায়ে পাইলটদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রথমে পিস্তল, তার পর অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেন পাইলটেরা। আর এটাই বাঁচার শেষ অস্ত্র।