US-Venezuela Conflict

কেউ সরাসরি বিরোধিতায়, কেউ ‘উদ্বিগ্ন’, কেউ ‘মাপছে জল’! ভেনেজ়ুয়েলায় ট্রাম্প-অভিযানে বিস্মিত বিশ্বে বিবিধ প্রতিক্রিয়া

মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব জুড়ে। ট্রাম্পের আক্রমণ উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। প্রায় সব দেশেরই একটাই দাবি, শান্তি ফিরুক ভেনেজ়ুয়েলায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৩
How world reacts to US strikes on Venezuela

ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার আগ্রাসন নিয়ে নানা মত বিশ্ব জুড়ে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করা হয়েছে! এমনই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুমকি বা হুঁশিয়ারি নয়, সরাসরি ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর এই আগ্রাসনকে বিশ্বের অনেকেই ভাল ভাবে নিচ্ছেন না! কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার নিন্দা করেছেন। কেউ কেউ আবার ট্রাম্পের মানসিকতাও প্রশ্ন তুলছেন। কোনও কোনও দেশ প্রশ্ন তুলছে, সত্যিই কি এই আগ্রাসনের প্রয়োজন ছিল? শান্তিপূর্ণ আলোচনায় কি মিলত না সমাধানের পথ?

Advertisement

মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব জুড়ে। ট্রাম্পের আক্রমণ উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। প্রায় সব দেশেরই একটাই দাবি, শান্তি ফিরুক ভেনেজ়ুয়েলায়। দিচ্ছে ভেলেজ়ুয়েলাবাসীর পাশে থাকার বার্তাও। বহু দেশই এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে। প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া। প্রেসিডেন্টের গদিতে রয়েছেন বামপন্থা মনোভাবাপন্ন গুস্তাভো পেট্রো। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের উচিত জরুরি বৈঠক ডাকা। তবে প্রতিবেশী দেশের অশান্তির ঝড় যাতে কলম্বিয়ায় এসে না-পড়ে, তার জন্য সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথাও জানিয়েছেন পেট্রো। মার্কিন হামলায় নিন্দা করেছে চিন। শি জিনপিঙের সরকার জানিয়েছে, ভেনেজ়ুয়েলায় যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে, দাবি চিনের।

ভেনেজ়ুয়েলা এবং আমেরিকার মধ্যে কি কোনও শান্তি আলোচনা সম্ভব? বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে অনেকেই এক বাক্যে বলছেন, ‘‘না’’! তবে যদি সেই আলোচনা হয় কখনও তবে সেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে স্পেন। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক তার বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ভেনেজ়ুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং সংযম বজায় রাখার আহ্বান করছে স্পেন। বর্তমান সঙ্কটে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে তারা মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

রাশিয়া আবার স্পষ্ট ভাষায় আমেরিকার নিন্দায় সরব। মস্কোর মতে, এই সামরিক অভিযানের নেপথ্যে কোনও যুক্তি খাঁড়া করা যুক্তিসঙ্গত নয়! রুশ বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। ইরান মনে করে, ভেনেজ়ুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার উপর সরাসরি আক্রমণ করেছে আমেরিকা। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই বলেন, ‘‘যখন দেখবেন শত্রুরা আপনার উপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন, তখন ঘুরে দাঁড়ানো উচিত।’’

জার্মানি, ইটালির মতো ইউরোপীয় দেশগুলি জানিয়েছে, তারা ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ব্রিটেন আবার সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার এই হামলার নেপথ্যে তাদের কোনও হাত নেই। অন্য দিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পরোক্ষ ভাবে মাদুরোকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের মতে, মাদুরোর বৈধতার অভাব রয়েছে। তিনি কখনই শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে ছিলেন না। তবে একই সঙ্গে ইইউ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের নীতি মেনে ওই অঞ্চলে শান্তি বজায় অত্যন্ত জরুরি!

মধ্যরাতেই ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পর পর সাত বার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। হামলার খবর পাওয়া যায় সে দেশের মিরান্ডা, আরাগুয়ার মতো প্রদেশেও। এই হামলার নেপথ্যে কে বা কারা, প্রথমে তা স্পষ্ট ছিল না। সম্ভাব্য মার্কিন হানা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, সেই সময়েই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ভেনেজ়ুয়েলা এবং তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে বড় মাত্রার অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করা হয়েছে। তাঁরা দেশ ছেড়েছেন।” ট্রাম্পের এই একটা পোস্টই পাল্টে দেয় সব ছবি।

Advertisement
আরও পড়ুন