US warns China

ইরানকে অস্ত্র পাঠালে পরিণাম ভাল হবে না! দু’সপ্তাহের জন্য আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধবিরতির মাঝে চিনকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরানকে কোনও ভাবেই চিন যেন সহযোগিতা না করে। যদি অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে তারা, তা হলে পরিণাম খুব একটা ভাল হবে না।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৭
(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (ডান দিকে) চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফাইল চিত্র।

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (ডান দিকে) চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফাইল চিত্র।

দু’সপ্তাহের জন্য আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছে। একটা চূড়ান্ত সমাধানসূত্র বার করতে সেই বৈঠকে দু’দেশেই মুখোমুখি আলোচনার টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শনিবার ছিল সেই বৈঠক। কিন্তু তার আগেই ইরান নিয়ে চিনকে সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস থেকে মায়ামি যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘‘ইরানকে কোনও ভাবেই চিন যেন সহযোগিতা না করে। যদি অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে তারা, তা হলে পরিণাম খুব একটা ভাল হবে না।’’ ঘটনাচক্রে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সংবাদমাধ্যম সিএনএন মার্কিন গোয়েন্দাদের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছিল যে, ইরানকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করতে চলেছে চিন। বিশেষ করে সামরিক সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে কিছু দিনের মধ্যেই অস্ত্র পাঠাতে চলেছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের দেশ। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সরাসরি নয়, তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে এই সমরাস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে চিন। যাতে সহজে ধরা না পড়ে, কোথা থেকে অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে।

ঘটনাচক্রে, শনিবারের শান্তিবৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এখন অনেকেই ধন্ধে রয়েছেন যে, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির যে ঘোষণা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তে কি দুই দেশ অনড় থাকবে, না কি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার আঁচ পড়বে যুদ্ধবিরতিতে। এই আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। তবে এই ধরনের তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই দাবি করেছে বেজিং। আমেরিকায় চিনা দূতাবাস এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, বেজিং কাউকেই কোনও রকম অস্ত্র সহযোগিতা করছে না। যে ধরনের খবর ছড়াচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমেরিকাকে অনুরোধ করা হচ্ছে, এ ধরনের খবরের তারা যেন বিশ্বাস না করে।’’ ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের খবর ছড়িয়ে পরিবেশকে আরও অস্থির করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রের খবর, বেজিং এই তথ্য নস্যাৎ করলেও তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। যদি কোনও ভাবে ইরানকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করা হয়, তা হলে দু’দেশের কূটনীতিক সম্পর্কে যে একটা প্রভাব পড়বে, সেই ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি। ইরানে বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকা অভিযোগ তুলেছিল যে, ইরানকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া এবং চিন। যদিও দুই দেশ বার বারই সেই দাবিকে নস্যাৎ করেছে। কিন্তু দু’দেশের যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিবৈঠকের মাঝে সিএনএন-এর প্রতিবেদন ঘিরে হুলস্থুল পড়ে যায়। ওই প্রতিবেদনে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, ইরানে কাছে অ্যান্টি এয়ার মিসাইল সিস্টেম বা ম্যানপ্যাডস পৌঁছোচ্ছে। কম উচ্চতা দিয়ে যাওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলিকে গুলি করে নামানোর জন্য এই অস্ত্র ব্যবহার করছে ইরান।

Advertisement
আরও পড়ুন