(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসতে রাজি নয় ইরান। তার ফলে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনই দাবি করা হয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে।
শুধু পাকিস্তান নয়, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরও মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। ইরান এবং আমেরিকা— দুই দেশই যুদ্ধ বন্ধ করতে কিছু শর্ত নির্দিষ্ট করে পাকিস্তানের হাত দিয়ে পাঠিয়েছে একে অপরকে। ঠিক হয়েছিল, দুই দেশের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে আলোচনায় বসবে। তবে ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে জানিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক নয়। কেন? কারণ হিসাবে ইরান জানিয়েছে, আমেরিকা যে দাবিগুলো তুলেছে তা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। সামরিক সংঘাতে লিপ্ত তিন দেশই। সেই অবস্থায় যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে উদ্যোগী হয় পাকিস্তান। আমেরিকা এবং ইরানকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয় তারা। পাকিস্তান চায়, ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসুক ইরান এবং আমেরিকা। প্রাথমিক ভাবে দুই দেশই পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে মেনে নিয়েছিল। শুরু হয়েছিল আলোচনার প্রস্তুতিও। কিন্তু আলোচনায় বসার আগেই তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান স্পষ্টতই পাকিস্তান-সহ অন্য মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে রাজি নয় তারা। তাই ইসলামাবাদে আলোচনায় থাকতে চায় না। তবে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আলোচনা পর্ব সহজতর করতে প্রস্তুত। এখন দেখার আদৌ যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না!
যুদ্ধবিরতির জন্য ইতিমধ্যেই ইরানকে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছে আমেরিকা। সেই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, ইরানই আমেরিকাকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। সেই বিষয় উল্লেখ করেও ট্রাম্প জানান, যত ক্ষণ না-পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী উন্মুক্ত করছে তেহরান, তত দিন পর্যন্ত ইরানকে ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাবে আমেরিকা। যদিও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ট্রাম্পের দাবি অসত্য এবং ভিত্তিহীন। এ বার ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনাই চায় না।